দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘ দিন পর জামায়াতে ইসলামী এক ঐতিহাসিক মহাসমাবেশ আয়োজন করেছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। দলটি এক মাসের বেশি সময় ধরে ব্যাপক প্রস্তুতি ও প্রচারণার মাধ্যমে দেশের সর্বত্র তার কর্মীদের দাওয়াতপত্র ও লিফলেট বিতরণ করেছে।
শহর-গ্রাম জুড়ে ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ডে জমজমাট আয়োজনের পাশাপাশি অনলাইনে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়। এতে কুড়ি কোটি টাকারও বেশি ব্যয় করা হয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন।
সমাবেশের মঞ্চ জাতীয় পতাকার রঙে সজ্জিত করা হয়। বৃষ্টি ও আবহাওয়ার অনুকূলে মঞ্চ ও জনসমাগমের স্থান প্রস্তুত করা হয় উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে। ড্রোন ক্যামেরা থেকে নেওয়া ফুটেজসহ ফেসবুক লাইভে সমাবেশ সম্প্রচার করা হয়। পাশাপাশি শাহবাগসহ আশপাশের স্থানে জায়ান্ট স্ক্রিন বসিয়ে জনতার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়।
জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সমাবেশে অংশগ্রহণের জন্য দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় ১০ হাজার বাস, কয়েকটি লঞ্চ এবং রিজার্ভ ট্রেন চালানো হয়। যদিও নেতাকর্মীরা নিজ অর্থে অংশ নিয়েছেন, দলীয় ব্যবস্থাপনায় তাদের প্রতি আনুমানিক দেড় থেকে দুই হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে।
একাধিক সূত্রের মতে, সমাবেশে অন্তত চার থেকে পাঁচ লাখ জনসাধারণ অংশগ্রহণ করেছে। যদিও দলীয়ভাবে মোট ব্যয়ের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, তবে শীর্ষ নেতৃত্ব এক সংবাদ সম্মেলনে এটিকে ‘বৃহৎ ও ব্যয়বহুল কর্মসূচি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
জামায়াতের এই উদ্যোগ রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে, তবে দলীয় নেতারা তাদের এই আয়োজনকে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন।

