বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

দক্ষিণ কোরিয়ায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস: নিহত ১৪, নিখোঁজ বহু

ডেস্ক রিপোর্ট।।

টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে দক্ষিণ কোরিয়ার নয়নাভিরাম পাহাড়ি অঞ্চলগুলো এখন একেকটি মৃত্যু ফাঁদে পরিণত হয়েছে। ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় দেশজুড়ে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪-তে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও অন্তত ১২ জন।

দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্যমতে, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে সানচেওং, গাপেয়ং এবং জিওংগি প্রদেশের পার্বত্য অঞ্চল। কিছু এলাকায় বাড়িঘর ও রাস্তা মাটির নিচে চাপা পড়েছে, কোথাও আবার বিশাল বন্যার তোড়ে ভেসে গেছে কৃষিজমি ও পশুপাখি।

চুংচেওন অঞ্চলে অবস্থিত একাধিক জনপ্রিয় ভ্রমণ গন্তব্য পুরোপুরি ধসে পড়েছে ভূমিধসে। স্থানীয়দের ভাষায়, “সকালবেলায় যে পাহাড় দাঁড়িয়ে ছিল, বিকেলে সেখানে শুধু কাদামাটি।”

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আগাম সতর্কতায় সরকারের সমন্বয়ে ১০ হাজারেরও বেশি বাসিন্দাকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। কিন্তু হাজারো মানুষ এখনো আশ্রয়কেন্দ্রে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

বন্যার কারণে ৪০ হাজারের বেশি বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বেশ কয়েকটি সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে। পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে চলছে উদ্ধার অভিযান, যেখানে সেনাবাহিনী, দমকল ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা একসঙ্গে কাজ করছেন।

যদিও দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমেছে, তবু রাজধানী সিউল ও উত্তরাঞ্চলে আবারও ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা করছে আবহাওয়া বিভাগ। দেশব্যাপী ভূমিধসের সতর্কতা জারি রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী নিজেই উদ্ধার তৎপরতা পর্যবেক্ষণে মাঠে রয়েছেন। তিনি বলেন, “এই পরিস্থিতি আমরা কখনো চাইনি। তবে আমরা প্রতিটি নাগরিকের পাশে আছি।”

বন্যা ও ভূমিধসের এমন বিপর্যয় নিয়ে জলবায়ু বিশ্লেষকরা বলছেন, “এই ধরনের দুর্যোগ এখন আরও ঘন ঘন ও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। দক্ষিণ কোরিয়ার মতো উন্নত দেশগুলোকেও জলবায়ু দুর্যোগ মোকাবেলায় নতুন করে পরিকল্পনা নিতে হবে।”

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন