বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পর্ক এক নতুন স্তরে পৌঁছেছে। চলতি বছর তিনটি প্রধান যৌথ সামরিক মহড়ার পাশাপাশি বাংলাদেশে যুক্ত হচ্ছে উন্নত প্রযুক্তিসম্পন্ন মানববিহীন নজরদারি ড্রোন—আরকিউ-২১ ব্ল্যাকজ্যাক। বিশ্লেষকরা বলছেন, আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক পরিবেশ এবং ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে প্রতিযোগিতার পরিপ্রেক্ষিতে এই অংশীদারিত্ব এক নতুন কৌশলগত বার্তা বহন করছে।
ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস এক মিডিয়া নোটে জানিয়েছে, এই মহড়াগুলো শুধু প্রশিক্ষণই নয়, বরং উভয় দেশের নিরাপত্তা কৌশলে সমন্বয়ের অংশ।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও ইউএস আর্মি প্যাসিফিকের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিতব্য ‘টাইগার লাইটনিং’ মহড়ায় জঙ্গলে অভিযান, আইইডি প্রতিরোধ, ও আহতদের দ্রুত অপসারণের কৌশল শেখানো হবে। এটা হবে টানা চতুর্থবারের মতো এই মহড়া।
বিশেষ বাহিনীসমূহের জন্য ‘টাইগার শার্ক’ মহড়াটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এতে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো ব্রিগেড এবং নৌবাহিনীর স্পেশাল ওয়ারফেয়ার ডাইভিং অ্যান্ড স্যালভেজ ইউনিট। প্যাট্রোল বোট চালানো থেকে শুরু করে আঘাতকেন্দ্রিক অস্ত্রের ব্যবহারে মার্কিন সরঞ্জাম ও কৌশল শিখছে বাংলাদেশি বাহিনী।
এটি মূলত মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ মোকাবিলা প্রশিক্ষণ, যেখানে বাংলাদেশের সি-১৩০ পরিবহন বিমান বহরের দক্ষতা ও সম্ভাবনা বাড়ানোর দিকে নজর থাকবে। অ্যারোমেডিকেল ও অনুসন্ধান-উদ্ধার কার্যক্রমও এতে গুরুত্ব পাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীতে যুক্ত হচ্ছে আরকিউ-২১ ‘ব্ল্যাকজ্যাক’ নামক আধুনিক ড্রোন সিস্টেম। এটি মূলত একটি মাঝারি পাল্লার মানববিহীন আকাশযান, যা সমুদ্রসীমা, সীমান্ত ও শান্তিরক্ষা অভিযানে ব্যবহৃত হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ায় বাংলাদেশ আকাশপথে নজরদারিতে একধাপ এগিয়ে যাবে। এটি সমুদ্রজলদস্যুতা, মানবপাচার এবং সীমান্ত অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সহায়ক হতে পারে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার (অব.) কামরুল হাসান বলেন, “বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মহড়াগুলো এখন আর আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এতে কৌশলগত প্রযুক্তি ও তথ্য আদান-প্রদান ঘটছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলবে।”

