জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রা ও সমাবেশকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জে সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে চারজনের মৃত্যুর ঘটনায় ইতোমধ্যে চারটি পৃথক হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে, যেখানে প্রতি মামলাতেই অজ্ঞাত ১,৪০০ থেকে ১,৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। অপর নিহত রিকশাচালক রমজান মুন্সীর মৃত্যুর ঘটনায় আরেকটি মামলা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার রাতে এসব মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মির মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পদযাত্রার দিন শহরের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, গুলি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় প্রাণ হারান কিশোর রমজান কাজী (১৭), দীপ্ত সাহা (২৭), সোহেল রানা মোল্লা (৩০) ও ইমন তালুকদার (১৭)। প্রত্যেক হত্যার ঘটনায় একটি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এসআই আয়ুব হোসেন বাদী হয়ে রমজান কাজীর হত্যায় মামলা করেন। তার এজাহারে বলা হয়, শান্তিপূর্ণ পদযাত্রার পর এনসিপির গাড়িবহরে হামলা চালায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তারা দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে। সংঘর্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বাধা দিতে গেলে তাদের দিকেও গুলি ছোড়া হয়, এবং এসময় রমজান কাজী নিহত হন।
একইভাবে দীপ্ত সাহা, সোহেল রানা ও ইমন তালুকদারের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাগুলোতেও প্রায় অভিন্ন বিবরণ পাওয়া গেছে। প্রত্যেক মামলায় ১,৪০০ থেকে ১,৫০০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার মারা যান রিকশাচালক রমজান মুন্সী (৩২)। তিনিও পদযাত্রার দিন সহিংসতার সময় গুলিবিদ্ধ হন। তার মৃত্যুতেও একটি হত্যা মামলা প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এখন পর্যন্ত নিহতদের মধ্যে মাত্র একজনের— রমজান মুন্সীর—ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। বাকিদের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি না হওয়ায় এবং একটি লাশ দাহ করার পর প্রশ্ন উঠেছে, তদন্ত প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছভাবে এগোবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, “বিলম্ব হলেও সব মরদেহের বিষয়ে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এনসিপি দাবি করছে, তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির ওপর হামলা চালানো হয়েছে “সরকারি ছত্রছায়ায়”। অপরদিকে, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, এনসিপির মিছিল থেকে উসকানিমূলক স্লোগান ও আগ্রাসী আচরণ সংঘর্ষের কারণ।
গোপালগঞ্জে কয়েক দশকের মধ্যে এই প্রথম এভাবে সংঘর্ষে একসঙ্গে এতজন নিহত হলেন। প্রশাসন বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অভিযান ও তদন্ত একযোগে চলছে।

