বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

“পরীক্ষা স্থগিত, গুজব, ও ট্রমা—দায় নেবে কে?”

ডেস্ক রিপোর্ট।।

সরকারের কিছু উপদেষ্টার ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ’ নিয়ে সরব হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। মঙ্গলবার বাংলামোটরের রূপায়ন টাওয়ারে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “রাত ৩টা-৪টার দিকে পরীক্ষা স্থগিতের খবর জেনে আমাদের হতবাক হতে হয়। উপদেষ্টাদের মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই, ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না—এ কেমন সরকার?”

নাহিদ ইসলাম বলেন, শিক্ষা উপদেষ্টার আচরণ ছিল “চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন”। তার ভাষায়, “পরীক্ষার আগের রাত পর্যন্ত সিদ্ধান্ত না আসা, শিক্ষার্থীদের মানসিক ট্রমায় ফেলা—এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

বক্তব্যে তিনি হুঁশিয়ার করেন, “এইচএসসি পরীক্ষার্থীসহ লাখো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে যদি এমন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, তাহলে অভিভাবকদের আস্থা কোথায় থাকবে?”

ঘটনার অভিঘাত যে শুধু পরীক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, তা তুলে ধরে নাহিদ বলেন, “শিশু-কিশোররা ট্রমাটাইজ হয়ে গেছে। মানসিক ক্ষত সারাজীবন বয়ে বেড়াবে। তাই পুনর্বাসনের ব্যবস্থা, মানসিক সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদী মনিটরিং প্রয়োজন।”

তিনি এসময় একটি স্বাধীন ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানান, যেখানে শিক্ষাবিদ, শিশু মনোবিজ্ঞানী ও স্কুল কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি থাকবে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা লাশ গুমের গুজব শুনেছি। সরকার যথাসময়ে প্রকৃত তথ্য দিলে এই গুজব ছড়াত না। এখনো পর্যন্ত কতজন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সেখানে ছিলেন, কতজন আহত হয়েছেন বা মারা গেছেন—এর কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।”

এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে পরিষ্কার ব্যাখ্যা এবং তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানান তিনি, যাতে গুজব থামে এবং মানুষের আস্থা ফিরে আসে।

সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. তাসনিম জারা বলেন, “দেশে যদি ভবিষ্যতে কোনো ইমার্জেন্সি ঘটে, আক্রান্তরা হাসপাতালে কীভাবে যাবে, সেবার রোডম্যাপ কোথায়? কোনো মেডিকেল টিম না থাকলে সেই মুহূর্তে উদ্ধার, চিকিৎসা ও সাপোর্ট কীভাবে সম্ভব?”

তিনি রাষ্ট্রীয় ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম গঠনের আহ্বান জানান, যাতে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি পেশাদারভাবে মোকাবিলা করা যায়।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন