সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

আহত শিশুদের বাঁচাতে রক্তদানে ঢাকায় জনতার ঢল

ডেস্ক রিপোর্ট।।

বিমান দুর্ঘটনায় দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশু ও অন্যান্য আহতদের রক্ত দিতে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভিড় করছেন সাধারণ মানুষ। কেউ এসেছেন দূর জেলা থেকে, কেউ পাশের এলাকা থেকে—একটাই উদ্দেশ্য, “এক ফোঁটা রক্তে যদি একটা জীবন বাঁচে!”

মঙ্গলবার সকাল থেকে ইনস্টিটিউটের সামনে বিভিন্ন বয়স ও পেশার মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন রক্তদানের জন্য। নারী-পুরুষ, ছাত্র, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও পিছিয়ে নেই।

বিশেষ করে ‘নেগেটিভ’ রক্তের গ্রুপের সংকট থাকায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকজন ছুটে আসছেন। মৌলভীবাজার থেকে আসা খালেদ আহমেদ নামের এক ডেইরি ব্যবসায়ী বলেন,
“আমার রক্তের গ্রুপ ‘O Negative’। শুনলাম এই গ্রুপের খুব দরকার। দেরি না করে রওনা দিলাম। শিশুরা যেন প্রাণে বাঁচে, এই আশায় রক্ত দিতে এসেছি।”

কেরানিগঞ্জের একটি মাদরাসা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে এসেছেন সালমান নামে এক তরুণ। তিনি বলেন,
“আমরা কয়েকজন মিলে এসেছি। নাম এন্ট্রি হয়ে গেছে। ডাক পেলেই রক্ত দেবো। কোনো শিশু যেন রক্তের অভাবে মারা না যায়, সেটাই চাই।”

জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে দেখা যায়, রোভার স্কাউট ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা স্বেচ্ছাসেবকদের নাম, রক্তের গ্রুপ এবং যোগাযোগের তথ্য সংগ্রহ করছেন। বুথ প্রস্তুত না থাকায় তাৎক্ষণিক রক্ত নেওয়া না হলেও নিবন্ধন চলছে পুরোদমে।

যাত্রাবাড়ী থেকে আসা বিন ইয়ামিন বলেন,
“রক্ত না পেয়ে কেউ কষ্টে থাকবে আর আমরা বসে থাকবো—এটা হতে পারে না। তাই সব কাজ বাদ দিয়ে চলে এসেছি।”

কেরানিগঞ্জের নজরগঞ্জ থেকে রক্তদানে আসা আজিজা বলেন,
“আমি ও আমার আত্মীয় এসেছি রক্ত দিতে। আরও কয়েকজন রওনা দিয়েছেন। আমরা চাই, শিশুরা বাঁচুক, সুস্থ হয়ে উঠুক।”

রোভার স্কাউটের সদস্য মো. হাসান জানান,
“আমরা নাম ও তথ্য নিচ্ছি। ৮ম তলা থেকে সংকেত এলেই একে একে রক্ত নেওয়া শুরু হবে। বুথ এক ঘণ্টার মধ্যে প্রস্তুত হবে।”

এই ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় শুধু হাসপাতালের শয্যাগুলো নয়, কাঁপছে মানুষের হৃদয়ও। প্রতিটি রক্তদাতার মুখে একটাই কথা—“জীবন যেন বাঁচে, আরেকটা হাসি যেন ফিরে আসে।”

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন