বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

“সরকার নির্দিষ্ট দলের প্রতি পক্ষপাত করলে সুষ্ঠু নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে” — নুরুল হক নুরের মন্তব্য

ডেস্ক রিপোর্ট।।

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলোর বৈঠকের পর গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ঢাকা-৬ (নির্দলীয়) আসনের সংসদ-সদস্য নুরুল হক নুর জানিয়েছেন, সরকার যদি নির্দিষ্ট কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতি পক্ষপাত করে, তাহলে তা জনগণের আস্থা হারানোর কারণ হতে পারে। এমন পক্ষে থাকলে ভবিষ্যতে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে “তীব্র প্রশ্ন তৈরি হবে” বলেও তিনি সতর্ক করেছেন।

 বৈঠকের মূল বক্তব্য

  1. পক্ষপাতের আশঙ্কা
    নুরুল হক বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পরে সরকার সাধারণ মানুষের আস্থা নিয়েই ক্ষমতায় এসেছে। নির্দিষ্ট কোনো দলকে অতিরিক্ত সমর্থন দিলে জনগণের আস্থা “সরে যেতে পারে”।

  2. সিলেকশন প্রশ্ন
    তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কেন চারটি দলকে এই বৈঠকে বড় দল হিসেবেই ডাক দেওয়া হলো, অথচ “এগুলোর মধ্যে একটি দলের নিবন্ধনও নেই”। একই অভিযোগ তুলে দেন অন্যান্য নেতারাও।

  3. আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা বিচার
    চট্টগ্রামের আইনজীবী হত্যাকাণ্ড এবং গোপালগঞ্জে সংঘটিত অন্যান্য ঘটনা নিয়ে নুরুল হক বলেন, “অতিক্ষণ আগেই আমরা আঁচ করতে সক্ষম হয়েছিলাম—but আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা গোয়েন্দা তা ফাঁকি দিয়েছে।” সরকারের সমন্বয়ের অভাব এখানে তার মূল চিহ্নিত।

নুরুল হক বলেছেন, গণঅধিকার পরিষদের উদ্বেগ:

  1. স্বৈরাচারী শক্তির আগমন — বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনে ‘নাশকতা’ সৃষ্টি হতে পারে এবং গণঅধিকার সরকারের সতর্ক হওয়া উচিত।

  2. ন্যূনতম সমতা — জাতীয় ঐক্যমতে কয়েকটি দলের বক্তব্যে অতিরিক্ত প্রভাব বিস্তার অবৈধ, তবে সরকার যেন সমতা বজায় রাখে।

  3. জনআস্থা ও জনপ্রিয়তার পতন — গণঅধিকার মনে করছে, “জনগণের আস্থা ও সরকারের জনপ্রিয়তা কিছু ক্ষেত্রে কমেছে।”

  4. স্থায়ী জনপ্রতিনিধির অভাব — স্থানীয় ভোটে প্রতিনিধিত্ব না থাকার কারণে প্রশাসনিক জায়গায় বিশৃঙ্খলা বাড়ছে বলে এই সংস্থা মনে করছে।

 প্রস্তাবিত চালিকা শক্তি

  1. স্থানীয় নির্বাচন প্রস্তাব
    নুরুল হক আশা করছেন, প্রশাসনের ‘ফিটনেস যাচাই’র ভিত্তিতে স্থানীয় পর্যায়ে সুশৃঙ্খল নির্বাচন আয়োজন করা হবে—যদি সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

  2. মতবিনিময় সভা
    এনসিপি ছাড়াও অন্যান্য রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠনের নেতাদের নিয়ে ‘ব্যাপক আলোচনার’ প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন—এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা আশ্বাস দিয়েছেন।

বৈঠকে জোর দেওয়া হয়েছে, সরকারের নিরপেক্ষ অবস্থানই ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বৈদেশিক বিনিয়োগ ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক সংস্কার—এসবের ভিত্তি গড়তে পারে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন