বাংলাদেশ ক্রিকেটে হয়তো তার নাম বইয়ের পাতায় নেই। নেই ডিজিটাল আর্কাইভেও। তবু যাঁরা দেখেছেন, তাঁরা জানেন—সেই সময়ের ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালানো একজন ক্রিকেটার ছিলেন মীর বেলায়েত হোসেন বেলাল। সেই বেলালই চলে গেলেন না ফেরার দেশে। বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন দেশের হয়ে প্রথম আইসিসি ট্রফি খেলা এই ক্রিকেটার (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
৭০ ও ৮০ দশকের ক্রিকেটে যাঁরা ঢাকার ক্লাব মাঠে নিয়মিত ছিলেন, তাঁদের চোখে ছিলেন ‘বিগ হিটার’ বেলাল। শরীরটা একটু ভারী হলেও গতি ও শক্তিতে ছিলেন চমৎকার। ম্যাচ জেতানো ইনিংস, দুর্দান্ত ফিটনেস আর উইকেটকিপার হিসেবে কার্যকর ভূমিকা—সবকিছু মিলিয়ে বেলাল ছিলেন এক রঙিন চরিত্র।
গত কয়েক বছর ধরেই আর্থ্রাইটিসে ভুগছিলেন বেলাল। খেলাধুলা বা মাঠের সঙ্গে কোনো সরাসরি যোগাযোগ ছিল না। ময়মনসিংহে নিজ বাড়িতে নিভৃতে জীবন কাটাচ্ছিলেন। এবার সেখান থেকেই চিরবিদায় নিলেন। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল আনুমানিক ৭২ বছর।
১৯৭৯ সালে প্রথম আইসিসি ট্রফিতে বাংলাদেশ দলে জায়গা পেয়েছিলেন। এরপর ১৯৮৪ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত দক্ষিণ এশিয়ান এসিসি কাপে ছিলেন দলের অন্যতম সেরা পারফর্মার। আবাহনী, রূপালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক—সব দলেই ছিলেন নির্ভরতার প্রতীক।
খেলা ছাড়ার পরও ক্রিকেট ছাড়েননি। ছিলেন জাতীয় ক্রিকেট লিগ, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ রেফারি। তার দৃঢ়তা ও সততার জন্য প্রশংসিত ছিলেন সহকর্মী এবং আম্পায়ারদের কাছে।
আবাহনীর তিন বর্ষীয়ান ব্যক্তিত্ব—জালাল ইউনুস, সাজ্জাদুল আলম ববি ও গাজী আশরাফ হোসেন লিপু তাকে ‘আবাহনীর প্রাণ’ বলে উল্লেখ করেছেন। তাদের ভাষায়, “সে সময়কার সবচেয়ে ভয়ংকর বিগ হিটারদের একজন ছিলেন বেলাল। বলে কয়ে ছক্কা হাঁকাতে পারতেন।”
আজ বাদ জোহর ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজ মসজিদে জানাজা। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—এমন একজন অবদান রাখা ক্রিকেটারকে কি মনে রাখবে দেশের ক্রিকেট?
ক্রিকেটের ইতিহাসে মীর বেলালের নাম হয়তো বড় করে লেখা থাকবে না, কিন্তু যারা দেখেছেন, তারা জানেন—একটা সময়, একটা প্রজন্ম তাকে ভুলতে পারবে না।

