বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

সরকারি চাকরিজীবীরা আন্দোলন করলে বাধ্যতামূলক অবসর

ডেস্ক রিপোর্ট।।

সরকারি চাকরিতে শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে “সরকারি চাকরি (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫” জারি করা হয়েছে, যেখানে আন্দোলনে জড়িত থাকলে বা অন্যকে কাজে বাধা দিলে বরখাস্ত বা বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

বুধবার (২৪ জুলাই) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব ড. হাফিজ আহমেদ চৌধুরীর স্বাক্ষরে অধ্যাদেশটি জারি করা হয়। এটি অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।

সংশোধিত আইনের ৩৭(ক) ধারায় বলা হয়েছে:

  1. সরকারি কর্মচারী যদি অন্য কর্মচারীর কাজে বাধা দেন, কিংবা

  2. আইনি কারণ ছাড়া কাজে অনুপস্থিত থাকেন, অথবা

  3. সরকারি আদেশ, পরিপত্র বা নির্দেশ অমান্য করেন — তাহলে তা “সরকারি কাজে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী অসদাচরণ” হিসেবে গণ্য হবে।

এ ধরনের অপরাধের শাস্তি হিসেবে রাখা হয়েছে:

  1. নিম্ন পদে অবনমন,

  2. বাধ্যতামূলক অবসর, অথবা

  3. চাকরি থেকে বরখাস্ত।

যদিও আইনটিতে “আন্দোলন” শব্দটি সরাসরি ব্যবহৃত হয়নি, তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ভাষা ও কাঠামো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যা সরকারি কর্মচারীদের ধর্মঘট বা কর্মবিরতিকে নিষিদ্ধ করে। অর্থাৎ, কর্মবিরতির মাধ্যমে অন্যকে কাজ থেকে বিরত রাখতে চেষ্টা করলেই তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

আইন অনুযায়ী, অভিযুক্ত কর্মচারীকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর সুযোগ দেওয়া হবে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হলো—
রাষ্ট্রপতির আদেশের বিরুদ্ধে কোনো আপিল করা যাবে না।
তবে চাইলে অভিযুক্ত ব্যক্তি ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে রাষ্ট্রপতির নিকট রিভিউ আবেদন করতে পারবেন, যা হবে চূড়ান্ত ও বাধ্যতামূলক।

বলা হয়েছে, সংসদ ভেঙে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে জরুরি ভিত্তিতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করেছেন।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন