ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী শক্তি সৌদি আরব এবং উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (GCC) সদস্য রাষ্ট্রগুলো ফ্রান্সের এই পদক্ষেপকে “ঐতিহাসিক ও সাহসী সিদ্ধান্ত” হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়,
“এই সিদ্ধান্ত ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে সমর্থন করে এবং আন্তর্জাতিক সমঝোতার ভিত্তিতে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে।”
এছাড়া সৌদি আরব এমন দেশগুলোকে আহ্বান জানিয়েছে যারা এখনও ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি, তারাও যেন “ন্যায়বিচারের স্বার্থে” একই পদক্ষেপ নেয়।
কাতার, যেটি গাজা যুদ্ধ ইস্যুতে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে চলমান পরোক্ষ আলোচনায় অন্যতম মধ্যস্থতাকারী, ফরাসি ঘোষণাকে “অঞ্চলিক শান্তির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ” বলে উল্লেখ করেছে।
কুয়েত এই সিদ্ধান্তকে “দীর্ঘদিনের অবিচারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় অবস্থান” হিসেবে অভিহিত করেছে।
এদিকে GCC—যার সদস্য সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন ইতিমধ্যে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করেছে—তারা জানিয়েছে,
“ফ্রান্সের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক শান্তিপ্রক্রিয়াকে পুনর্জীবিত করতে সহায়ক হবে।”
চলতি মাসের শেষ দিকে সৌদি আরব ও ফ্রান্সের সহসভাপতিত্বে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন দ্বিরাষ্ট্র সমাধান নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে, যা এই ঘোষণার পর নতুন মাত্রা পেতে পারে।
বিশ্ব রাজনীতিতে ফ্রান্সের এই পদক্ষেপ একটি বড় বার্তা — বিশেষত এমন সময় যখন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ও অস্থিরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আরব রাষ্ট্রগুলোর সম্মিলিত সমর্থন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র স্বীকৃতির পক্ষের চাপ বাড়ছে।

