সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

মৌসুমের শেষপ্রান্তে আমের বাজারে আগুন, দাম বৃদ্ধিতে ক্ষুব্ধ ক্রেতারা

ডেস্ক রিপোর্ট।।

দেশি আমের মৌসুম প্রায় শেষের পথে। এর প্রভাব পড়েছে রাজধানীর বাজারগুলোতে। কমে গেছে আমের সরবরাহ, আর সেই সুযোগে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে মৌসুমি এই ফল। তবে সরবরাহে বড় ঘাটতি না থাকা সত্ত্বেও মূল্যবৃদ্ধিকে অযৌক্তিক দাবি করছেন অনেক ক্রেতা।

রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মালিবাগ, মগবাজার, রাজাবাজার, রামপুরাসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এখনো আম্রপালি, আশ্বিনা এবং বারি জাতের আম পাওয়া যাচ্ছে পর্যাপ্ত পরিমাণে। কিন্তু এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের আমের দাম বেড়েছে ৩০-৫০ শতাংশ পর্যন্ত।

বর্তমানে আম্রপালি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ২২০ টাকায়, যেখানে এক সপ্তাহ আগে তা ছিল ১২০-১৩০ টাকার মধ্যে। ক্যাটাগরি ‘বি’ আম্রপালি বা ছোট আকারের আম মিলছে ১০০-১২০ টাকায়, যা আগে পাওয়া যেত অর্ধেক দামে। একইভাবে সুরমা ফজলি বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৫০ টাকায় (পূর্বমূল্য ১০০-১২০ টাকা) এবং ব্যানানা আমের দাম উঠে গেছে ২৪০ টাকা পর্যন্ত।

বাজারের বিক্রেতারা বলছেন, মৌসুম প্রায় শেষ হওয়ায় আমের সরবরাহ হ্রাস পেয়েছে। ফলে পাইকারি বাজার থেকে আম কিনতেই তাদের বেশি খরচ করতে হচ্ছে। কারওয়ান বাজারের এক বিক্রেতা আলী আহমেদ বলেন, “হিমসাগর, ল্যাংড়ার মতো আম তো বাজারে নেই। আম্রপালিও আড়তে কম এসেছে। তাই দাম বেড়েছে।”

মালিবাগের আরেক বিক্রেতা আসিফ আহমেদ বলেন, “আম পচনশীল পণ্য, তাই স্টক রাখা যায় না। সরবরাহ কমলেই দাম বাড়ে—এটাই নিয়ম।”

তবে এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন ক্রেতারা। বাজারে আম কিনতে আসা আমিনুল ইসলাম বলেন, “যে আম এক সপ্তাহ আগে ১৭০ টাকা ছিল, সেটা এখন ২৩০! এতটা হঠাৎ দাম বাড়া অযৌক্তিক।”
অন্য এক ক্রেতা আয়েশা খাতুন অভিযোগ করেন, “সব এলাকায় এখনো আম পাওয়া যাচ্ছে, তাই সিজনের অজুহাতে দাম বাড়ানো আসলে বিক্রেতাদের কারসাজি। সিন্ডিকেট এখানে সক্রিয়।”

শুধু আম নয়, কাঁঠালসহ অন্যান্য মৌসুমি ফলের দামেও ঊর্ধ্বগতি লক্ষ করা যাচ্ছে। বর্তমানে বড় আকারের কাঁঠাল (৬-৭ কেজি) বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৩০-১৫০ টাকা। ড্রাগন ফলের দাম ৬০-২০০ টাকা, জাম্বুরা ৫০-৭০ টাকা, লটকন ১৮০-২২০ টাকা এবং পেয়ারা ৫০-৮০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

ফল বিক্রেতারা বলছেন, মৌসুম শেষ হওয়ায় জেলায় জেলায় উৎপাদন কমেছে, সরবরাহ কমে যাওয়ায় দামের এই উল্লম্ফন। তবে ক্রেতারা বলছেন, পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও অপ্রয়োজনীয় দাম বাড়িয়ে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করা হচ্ছে।

সাধারণ ক্রেতারা দাবি করছেন, সরকারের উচিত এ ধরনের মূল্যবৃদ্ধির পেছনের কারণ খতিয়ে দেখা এবং বাজারে নজরদারি জোরদার করা। যাতে করে মৌসুমি সুযোগকে কেন্দ্র করে অসাধু ব্যবসায়ীরা সাধারণ ভোক্তাদের উপর চাপ সৃষ্টি না করতে পারে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন