ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় চলমান মানবিক বিপর্যয়ের মুখে অবরুদ্ধ বাসিন্দাদের জন্য আকাশপথে ত্রাণ পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। তবে তাদের এই কার্যক্রম চালাতে হবে ইসরায়েলের শর্তানুসারে — শুধুমাত্র আকাশপথ ব্যবহার করে, কোনোভাবে স্থলসীমান্ত অতিক্রম করা যাবে না।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল শুক্রবার এ তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে, এবং প্রথম চালানে জর্ডানের একটি কার্গো বিমান আজই ত্রাণ ফেলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ত্রাণ বিতরণ করা হবে ছোট ছোট প্যারাস্যুটের মাধ্যমে, যা নির্দিষ্ট খোলা জায়গা বা সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় ফেলা হবে। অতীতে এ ধরনের কার্যক্রম চালানো হলেও তা অনেক সময় প্রাণঘাতী প্রমাণিত হয়েছে।
২০২৪ সালে আকাশপথে ফেলা একাধিক ত্রাণ বস্তা পড়ে গাজার পাঁচজন বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছিল বলে নিশ্চিত করে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা।
ইসরায়েলের টানা ২১ মাসের অবরোধ ও হামলায় গাজা আজ এক মৃত্যুপুরী। জাতিসংঘের হিসেবে, গাজায় দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে জনজীবন। মে মাস থেকেই খাবার সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি। অধিকাংশ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে মার্কিন তত্ত্বাবধানে পরিচালিত খাদ্য বিতরণ কেন্দ্রে, যেখানে ভিড়ের চাপে বা সেনা হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটে।
বিশ্বজুড়ে ১১৫টি মানবাধিকার সংস্থা ও দাতব্য প্রতিষ্ঠান যৌথ বিবৃতিতে বলেছে,
“আমরা আমাদের সহকর্মী ও সাধারণ ফিলিস্তিনিদের ক্ষয়ে যেতে দেখছি। গাজায় মানবিক সহায়তা প্রতিরোধের এই নীতি নিষ্ঠুর ও অমানবিক।”
তারা ইসরায়েলের বাধাসৃষ্টিকারী ভূমিকার কড়া সমালোচনা করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সক্রিয় হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।

