বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

সংবিধান সংশোধন ও ধর্মীয় সহিংসতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ

ডেস্ক রিপোর্ট।।

বাংলাদেশে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক কমিশন (USCIRF)। সংস্থাটি জুলাই মাসে প্রকাশিত একটি রিপোর্টে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা, সহিংসতা এবং আইনগত বিধিনিষেধকে মানবাধিকার ও ধর্মীয় সহনশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে অভিহিত করেছে।

২০২৪ সালের মাঝামাঝি রাজনৈতিক পালাবদলের সময় দেশের পরিস্থিতি বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে বলে উল্লেখ করে রিপোর্টে বলা হয়, শেখ হাসিনার দেশত্যাগ এবং অন্তর্বর্তী সরকারের গঠন— যার নেতৃত্বে আছেন নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস— সেই সময়কালে ব্যাপক সহিংসতা ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

ঢাকায় ইউএসসিআইআরএফ-এর সফরের ভিত্তিতে প্রস্তুত এই রিপোর্টটি লিখেছেন সংস্থার দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশ্লেষক সীমা হাসান।

রিপোর্টে জানানো হয়, ৫ থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত দেশে ১,৭৬৯টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ২০টি ছিল সরাসরি সাম্প্রদায়িক হামলা। বেশ কিছু হিন্দু ধর্মাবলম্বী পরিবার আওয়ামী লীগের সমর্থক ভেবে প্রতিশোধমূলক হামলার শিকার হয়।

তবে, রিপোর্টে ইতিবাচক দিকও তুলে ধরা হয়েছে— অনেক মুসলিম ছাত্র ও নাগরিক ওই সময়ে সংখ্যালঘু মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়ের নিরাপত্তায় এগিয়ে আসেন।

নতুন সরকার সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠন করেছে, যার প্রস্তাবনাগুলোর মধ্যে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ শব্দ বাদ দিয়ে ‘বহুসংস্কৃতিবাদ’ বা ‘বহুত্ববাদ’ যোগ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এই প্রস্তাবে বিএনপি আপত্তি জানালেও প্রস্তাবিত শব্দের পরিবর্তে ‘আল্লাহর ওপর অবিচল আস্থা’ শব্দবন্ধ সংবিধানে যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে দলটি। এদিকে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ইসলাম-ভিত্তিক রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী ও আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া ছাত্রদের নবগঠিত ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টি বা জাতীয় নাগরিক দল (এনসিপি) আংশিক সমর্থন জানিয়ে ‘বহুত্ববাদ’-এর পরিবর্তে বাংলা বিকল্প বা ‘বহুসংস্কৃতিবাদ’ শব্দ ব্যবহারের পক্ষে মত দিয়েছে।

এদিকে নারী সংস্কার কমিশনের ৪৩৩টি সুপারিশের একটি হলো ধর্মনিরপেক্ষ নাগরিক আইন চালু করা, যা ধর্মীয় পারিবারিক আইনকে সম্পূরক করবে। এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে হেফাজতে ইসলামসহ কিছু ইসলামপন্থী দল বিক্ষোভ করে এবং নারীদের প্রতি আপত্তিকর বক্তব্য দিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ে।

রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, এখনো বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ১৯৫(এ) ধারা বহাল আছে, যা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করে। ২০২৩ সালের সাইবার সিকিউরিটি আইন অনুযায়ী, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে এমন কনটেন্ট ছড়ালে দুই বছরের কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। এসব বিধান মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ধর্মীয় সহনশীলতাকে সীমিত করে বলে মন্তব্য করেছে ইউএসসিআইআরএফ।

সংস্থাটি বলেছে, “ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত না হলে, সংবিধান সংস্কার বৈষম্য আরও গভীর করতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে সমাজে বিভক্তি বাড়াতে পারে।”

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন