গাজায় চলমান সংকটে বিশ্বজুড়ে যখন ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে নিন্দা বাড়ছে, তখন ভারত ও ইসরায়েল প্রতিরক্ষা ও সামরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দুই দেশের সামরিক কর্মকর্তারা এ সিদ্ধান্ত নেন, যা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ভারতের প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিং এবং ইসরায়েলের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল আমির বারাম বুধবার দিল্লিতে বৈঠকে বসেন। তারা “দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গিতে” কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও দৃঢ় করার সিদ্ধান্ত নেন।
এই বৈঠক এমন সময়ে হচ্ছে যখন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পাশাপাশি ফ্রান্স, যুক্তরাজ্যসহ বহু দেশ ইসরায়েলের শিশুদের অনাহারে মারার ঘটনাকে ‘পদ্ধতিগত মানবাধিকার লঙ্ঘন’ হিসেবে আখ্যায়িত করছে।
জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজায় চলমান সংকটে ৫৯,০০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। শুধু অপুষ্টি ও খাদ্য সংকটে ৮০ শিশু মারা গেছে।
ভারতের মেয়র রাজা ইকবাল সিং দিল্লিতে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত রিউভেন আজারের সঙ্গে সাক্ষাতে “এই কঠিন সময়ে ইসরায়েলের পাশে থাকার” প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। ভারতীয় অধিকারকর্মীদের মতে, এটি ‘নৈতিক দ্বিচারিতা এবং মানবিকতা-বিরোধী অবস্থান।’
দিল্লি-ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন “নির্বাচিত ন্যায়বিচার ফোরাম” এক বিবৃতিতে বলেছে, “যখন গাজায় শিশুদের ক্ষুধায় মরতে হচ্ছে, তখন ইসরায়েলের সঙ্গে নিরাপত্তা বিনিয়োগ চুক্তি চূড়ান্ত করা ভারতের অবস্থানকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।”
ভারত বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইসরায়েলি অস্ত্র আমদানিকারক। পাশাপাশি দেশ দুটি যৌথ উৎপাদনের দিকেও এগোচ্ছে। দু’সপ্তাহ আগেই ভারত ও ইসরায়েল ‘ইনভেস্টমেন্ট প্রোটেকশন এগ্রিমেন্ট’ (IPA) চূড়ান্ত করার ঘোষণা দেয়, যার মাধ্যমে উভয় দেশ বিপদাপন্ন সময়েও বিনিয়োগ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পাবে।
যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক ফিলিস্তিনি বিশ্লেষক ড. আবদুল্লাহ মোয়াসওয়েস বলেন, “ভারত সরকার ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করে নিজ দেশের কট্টর সমর্থকদের কাছে একপ্রকার কূটনৈতিক অর্জন দেখাতে চাইছে, যারা ইসরায়েলের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করে।”

