ইরান-ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতে যখন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চরম অস্ত্রসংকটে পড়ে, তখন যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে অনুরোধ করেছিল তাদের ‘থাড’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যাটারি থেকে কিছু ইন্টারসেপ্টর দেওয়ার জন্য। তবে সৌদি আরব সরাসরি সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে, যা ওয়াশিংটন ও তেলআবিবের জন্য ছিল স্পষ্ট কূটনৈতিক বার্তা।
যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তা মিডল ইস্ট আইকে জানান, এই অনুরোধ করা হয়েছিল যখন ইসরায়েলের মজুত ইন্টারসেপ্টর অস্ত্র প্রায় শেষ হয়ে যাচ্ছিল। পেন্টাগনের একটি সূত্র জানায়, ‘যুদ্ধের সময় আমরা মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের কাছে সহায়তা চেয়েছিলাম। কেউই সাড়া দেয়নি।’
এরই মধ্যে ৩ জুলাই সৌদি সামরিক বাহিনী নতুন ‘থাড’ ব্যাটারি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করে। তখন দেশটির প্রধান মনোযোগ ছিল নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তোলায়। যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র সৌদি আরবের এই পদক্ষেপ ইসরায়েলের জন্য ছিল অপ্রত্যাশিত।
ইসরায়েলের ওপর ইরানি হামলায় অন্তত পাঁচটি সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যদিও যুক্তরাষ্ট্র নিজস্ব যুদ্ধজাহাজ থেকে ‘স্ট্যান্ডার্ড মিসাইল-৩’ ছুড়ে কিছু আক্রমণ প্রতিহত করে, তবুও বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা স্পষ্ট করেছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং অস্ত্র মজুতের ঘাটতি।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ডগলাস বার্কি বলেন, ‘থাড বা প্যাট্রিয়ট যতই আধুনিক হোক, এগুলোর একটি দুর্বল দিক হলো “ম্যাগাজিন ডেপথ”। অর্থাৎ, দীর্ঘ সময়ের যুদ্ধ টানতে গেলে অস্ত্র ফুরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়।’
ইসরায়েলের একাধিক আরব প্রতিবেশী — বিশেষ করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতার — সম্প্রতি গাজা ও লেবাননে চালানো ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে। সৌদি আরবের এই অনাগ্রহকে বিশ্লেষকরা দেখছেন এক কৌশলগত বার্তা হিসেবে।
ইউরেশিয়া গ্রুপের মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষক ফিরাস মাকসাদ বলেন, ‘গাজায় গণহত্যার দায়ভার শুধু ইসরায়েলের নয়, যারা তা নীরব সমর্থন দিচ্ছে তাদের দিকেও আঙুল উঠছে। সৌদি আরব এখন তুরস্ক ও এমনকি ইরানের সঙ্গেও নতুন সমীকরণে যাচ্ছে।’
মধ্যপ্রাচ্যের এক কূটনীতিক বলেন, ‘এই যুদ্ধে ইসরায়েল দেখেছে কীভাবে একটি সমান শক্তিধর রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গেলে প্রতিরোধ আসতেই পারে। এটি আর একতরফা আক্রমণের যুগ নয়।’

