বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

কারিগর পাড়া ও রেজামনি পাড়ায় বিশুদ্ধ পানির উদ্যোগ সেনাবাহিনীর

ডেস্ক রিপোর্ট।।

বছরের পর বছর উন্নয়ন থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা খাগড়াছড়ির দুর্গম দুই গ্রাম—কারিগর পাড়া ও রেজামনি পাড়া—অবশেষে পাচ্ছে নতুন জীবন। সেনাবাহিনীর সরাসরি হস্তক্ষেপে শুরু হয়েছে বিশুদ্ধ পানির প্রকল্প, বাড়ছে স্বাস্থ্যসেবা, উন্নত হচ্ছে যোগাযোগব্যবস্থা।

এই দুই গ্রামে প্রায় ৫০০ মানুষ বসবাস করলেও এতদিন ছিল না বিদ্যুৎ, রাস্তা কিংবা নিরাপদ পানির ব্যবস্থা। শিশুসহ বাসিন্দারা আক্রান্ত হচ্ছিল পানিবাহিত নানা রোগে। পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে যখন কয়েক মাস আগে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সরেজমিনে গ্রাম দুটি পরিদর্শনে আসেন। গ্রামবাসীর সমস্যাগুলো শুনেই তিনি ঘোষণা দেন—‘প্রথমে বিশুদ্ধ পানি।’

সেনাপ্রধানের সেই ঘোষণার পর দ্রুত শুরু হয় একটি সোলার চালিত পানি সরবরাহ প্রকল্প, যা বাস্তবায়ন করছে রাজলক্ষ্মী অ্যান্ড রাজ পিউ ইঞ্জিনিয়ারিং সল্যুশন। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজীব বড়ুয়া জানান,

“প্রতিদিন চার হাজার লিটার বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করবে এই প্রকল্প। তিনটি পানির ট্যাংকি ইতোমধ্যে বসানো হয়েছে। কাজের ৭০ শতাংশ শেষ।”

কারিগর পাড়ার ৭০ বছর বয়সী কৃষক সুবীন্দ্র লাল কারবারি বলেন,

“আগে কুয়া আর টিউবওয়েলের লাল পানি খেয়ে অসুস্থ হয়ে যেতাম। সেনাপ্রধান যেন আল্লাহর পাঠানো দূত।”

শুধু বিশুদ্ধ পানির প্রকল্প নয়, সেনাবাহিনীর হাতে পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় তৈরি হচ্ছে সীমান্ত সড়ক, যা যোগাযোগে এনেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। আগে যেখানে দুই-তিন দিন হেঁটে যেতো মানুষ, এখন কয়েক ঘণ্টায়ই পৌঁছাতে পারছে। এই উন্নয়ন কৃষি উৎপাদন ও বিপণনেও সহায়ক হচ্ছে।

অন্যদিকে শিক্ষা কার্যক্রমেও সেনাবাহিনী দিয়েছে সক্রিয় সহায়তা। দুর্গম অঞ্চলে স্কুল প্রতিষ্ঠা ও উপকরণ বিতরণে তারা রাখছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

খাগড়াছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সে স্থাপিত সেনাবাহিনীর মেডিকেল ক্যাম্পে প্রতিদিন ভিড় করছেন শত শত মানুষ। ক্যাম্পে চারজন চিকিৎসক ও একজন নারী রোগীদের জন্য গাইনি বিশেষজ্ঞ সেবা দিচ্ছেন। রোগীদের বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে উন্নত মানের ওষুধ।

স্থানীয় গৃহবধূ জিনিয়া ত্রিপুরা বলেন,

“ছয় বছরের ছেলের হাতে ইনফেকশন হয়েছিল, এখানকার ওষুধে ভালো হয়ে গেছে। এত দ্রুত ও কার্যকর সেবা আগে কখনও পাইনি।”

সেনাবাহিনী জানিয়েছে, গত এক বছরে তারা ১৯ হাজার ৯১২ জন মানুষকে চিকিৎসাসেবা দিয়েছে, যার মধ্যে ১২ হাজার ৫৫৪ জন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর এবং ৭ হাজার ৩৫৮ জন বাঙালি।

স্থানীয়রা বলছেন, সেনাবাহিনীর এই কার্যক্রম শুধু মানবিক নয়, এটি একটি টেকসই উন্নয়নের দৃষ্টান্ত। পর্যটন, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর ভূমিকা পার্বত্য এলাকায় নতুন আশার আলো ছড়াচ্ছে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন