ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচ মানেই উত্তেজনা, আবেগ, আর বিতর্ক। এবার সেই বিতর্কের নতুন অধ্যায় খুললেন পাকিস্তানের সাবেক লেগ স্পিনার দানিশ কানেরিয়া। বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপ অব লেজেন্ডস (WCL)-এ পাকিস্তানের বিপক্ষে না খেলার সিদ্ধান্তে ভারতীয় ক্রিকেটারদের ‘নির্বাচনী দেশপ্রেম’-এর সমালোচনা করেছেন তিনি।
কানেরিয়ার প্রশ্ন—“যেখানে ভারতীয়রা WCL ম্যাচে অংশ নেয়নি ‘জাতীয় দায়িত্ব’-এর অজুহাতে, সেখানে পাকিস্তানের বিপক্ষে এশিয়া কাপে অংশ নিতে আপত্তি কোথায়?”
এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া পোস্টে কানেরিয়া লেখেন:
“যদি এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলা ঠিক হয়, তাহলে ডব্লিউসিএলে না খেলার যুক্তি কী? নিজের সুবিধামতো দেশপ্রেম ব্যবহার বন্ধ করুন। খেলাকে খেলাই থাকতে দিন, প্রচারণার হাতিয়ার বানাবেন না।”
তার এই বক্তব্যকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে তুমুল বিতর্ক।
২০২৫ সালের এশিয়া কাপ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৯ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর, সংযুক্ত আরব আমিরাতে। এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (ACC) জানিয়েছে, গ্রুপ পর্বে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ হবে ১৪ সেপ্টেম্বর। ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছালে দুই দল আরও দুইবার মুখোমুখি হতে পারে।
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বন্ধ থাকায়, কেবল আইসিসি বা এসিসি টুর্নামেন্টেই মুখোমুখি হয় দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দল। এমন আবহে কোনো ম্যাচে না খেলা, বা অংশগ্রহণ করাকে অনেকেই কূটনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, WCL একেবারেই লিজেন্ডদের প্রদর্শনীমূলক প্রতিযোগিতা হলেও, সেখানে পাকিস্তানের মুখোমুখি হতে অনীহা রাজনৈতিক ইঙ্গিত বহন করতে পারে। আর এখন এশিয়া কাপে একই দলের মুখোমুখি হতে রাজি হওয়া প্রশ্ন তো তুলবেই।
এ নিয়ে ভারতীয় বোর্ড (BCCI) আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না বললেও, বোর্ডের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, জাতীয় দলের সূচির নিরাপত্তা ও জিও-পলিটিক্যাল পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করেই অংশগ্রহণ নির্ধারিত হয়। প্রদর্শনী টুর্নামেন্টে খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক নয়।
ক্রিকেট যতই ‘খেলার মাঠে সীমাবদ্ধ’ রাখার কথা বলা হোক, উপমহাদেশে এটি বারবার কূটনৈতিক ও জাতীয়তার প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়। দানিশ কানেরিয়ার প্রশ্ন হয়তো বিতর্ক সৃষ্টি করছে, কিন্তু সেটি একটা বড় প্রশ্ন তো তুলেই—ক্রিকেট এখন কতটা খেলা আর কতটা রাজনৈতিক স্ট্যান্ডিং?

