“ফ্যাসিবাদ পতনের পরও বাংলাদেশে কাঠামোগত পরিবর্তন আসেনি”— এমন মন্তব্য করে নতুন সংবিধান প্রণয়ন, গণহত্যার বিচার এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
রোববার (২৭ জুলাই) নেত্রকোনায় ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির সমাপ্তিতে স্থানীয় পুরাতন কালেক্টরেট ভবনের প্রাঙ্গণে আয়োজিত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন,
“যে আশা নিয়ে ছাত্র-জনতা ফ্যাসিস্ট সরকারকে হটিয়েছে, তা এখনো পূরণ হয়নি। অভ্যুত্থানের পরও রাষ্ট্রব্যবস্থায় পুরনো শাসন ও দমননীতি বজায় আছে, যা ছাত্র-জনতা মেনে নেবে না।”
তিনি আরও বলেন,
“আমরা এখন আর কেবল প্রতিবাদে নেই—গঠনমূলক পরিবর্তনের জন্য কাজ করছি। জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে চাই সংবিধান সংস্কার। এজন্য আমরা ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে দেশজুড়ে গণসংযোগ চালাচ্ছি।”
সভায় জানানো হয়, আগামী ৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এনসিপি তাদের প্রস্তাবিত ‘জুলাই সনদ ও ঘোষণাপত্র’ জনসমক্ষে আনবে। এতে দেশের ভবিষ্যৎ কাঠামো কেমন হওয়া উচিত—তা নিয়ে বিস্তারিত রূপরেখা থাকবে।
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন,
“দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র এখনো অব্যাহত। সীমান্ত হত্যা থামছে না। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে যে কোনো হস্তক্ষেপ আমরা প্রতিহত করব।”
সভায় আরও বক্তব্য দেন উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা, কেন্দ্রীয় সংগঠক প্রীতম সোহাগ, কেন্দ্রীয় নেতা রুহুল আমিন আইনী, ও ফাহিম রহমান খান পাঠান।
মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ছাত্র নেতৃত্ব—যেমন জাতীয় যুবশক্তির সদস্য সচিব ডা. জাহেদুল ইসলাম, গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের আহ্বায়ক আবু বাকের মজুমদার, এবং এনসিপির বিভিন্ন অঞ্চলের সাংগঠনিক প্রতিনিধিরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপির সাম্প্রতিক ভাষ্য ও কর্মসূচি ইঙ্গিত দিচ্ছে—তারা আন্দোলনের পরবর্তী ধাপে পা রাখতে চাইছে। যেখানে শুধু সরকারবিরোধী স্লোগানে সীমাবদ্ধ না থেকে, সংবিধান ও রাষ্ট্রগঠনের মূল কাঠামোতে পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা সামনে আনা হচ্ছে।
এনসিপির বক্তব্যে রাজনৈতিক চাপ স্পষ্ট। তবে সংগঠনটি কেবল বিরোধিতা নয়, বিকল্প পথের দিকনির্দেশও দেওয়ার চেষ্টা করছে। এখন প্রশ্ন হলো—এই ঘোষণা ও আন্দোলন কতটা বাস্তবমুখী হয়ে উঠবে, আর জনগণ তাতে কতটা সাড়া দেবে?

