বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার বারবার সংস্কারের কথা বললেও প্রকৃতপক্ষে রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর দোষ চাপিয়ে নিজেদের দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে। “তারা ইনডাইরেক্টলি বলছে আমরা সহযোগিতা করছি না—এটা সঠিক নয়,” বলেন তিনি।
সোমবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে যুবদলের মাসব্যাপী ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত গ্রাফিতি আর্টস উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব।
মির্জা ফখরুল বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান এক বছর হয়ে গেলো। কিন্তু এখনও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচার শুরু হয়নি। কেন হয়নি, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়।”
বিএনপি মহাসচিব সতর্ক করে বলেন, “আমরা এমন কিছু তর্ক-বিতর্কে জড়াচ্ছি, এমন কোন্দলে জড়াচ্ছি, যা ফ্যাসিবাদের উত্থানকে আরও শক্তিশালী করছে। দেশে গণতন্ত্রের পথ ব্যাহত হচ্ছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই গণআন্দোলনের সময় থেকে বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নির্যাতন, গ্রেপ্তার ও সহিংসতা চালানো হয়েছে। “ডিবি অফিসে নিয়ে নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে, হাত-পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে, নখ তুলে ফেলা হয়েছে—কিন্তু এসবের চিত্র গণমাধ্যমে উঠে আসছে না,” বলেন তিনি।
ফখরুল দাবি করেন, “আমাদের কেউই সেদিন মুচলেকা দেয়নি, কেউ আত্মসমর্পণ করেনি। তারা মাথা উঁচু রেখেই রক্ত দিয়েছে। এই ইতিহাস কোনোভাবেই মুছে ফেলা যাবে না।”
তিনি আরও বলেন, “জুলাই আন্দোলনে শুধু রাজনৈতিক কর্মী নয়, সাধারণ মানুষ, এমনকি পাঁচ বছরের শিশু থেকে শুরু করে ৯০ বছরের বৃদ্ধ পর্যন্ত অংশ নিয়েছেন। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় দুই হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ দিয়েছে।”
মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, “আজকের পত্রিকায় দেখলাম, সমন্বয়কারীদের কয়েকজনকে গ্রেফতার করে একটি বাড়ি থেকে ৫০ লাখ টাকা আদায় করেছে পুলিশ। এটা কি আমরা চেয়েছিলাম? মাত্র এক বছর যেতে না যেতেই যদি এমন পরিস্থিতি হয়, তাহলে ভবিষ্যৎ কী?”
খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “মিথ্যা মামলায় তাকে পরিত্যক্ত কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। তিনি দেশের গণতন্ত্রের জন্য জীবনের সবকিছু উৎসর্গ করেছেন। অথচ এখন তাকে নিয়ে কেউ কথা বলে না।”
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলুন। যার যে অবদান আছে, তাকে স্বীকৃতি দিন।”

