বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

কাঁঠালের চিপস বিক্রি করে মাসে ২০ হাজার আয় করছেন যশোরের রুপা খাতুন

ডেস্ক রিপোর্ট।।

অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় হঠাৎ করেই বিয়ে হয় রুপা খাতুনের। বইখাতা ফেলে তুলে নেন হাঁড়ি-পাতিল। সংসারের ঘানি টানতে গিয়ে হারিয়ে যেতে বসেছিল নিজের স্বপ্নগুলো। কিন্তু রুপা খাতুন হেরে যাননি। একসময় ঘরের চৌকাঠ পেরিয়ে হাতে নেন উদ্যোক্তার হাল।

আজ তিনি যশোরের লেবুতলা ইউনিয়নের কোদালিয়া গ্রামের পরিচিত মুখ। ‘কাঁঠালের চিপসের কারিগর’ হিসেবে এখন তার পরিচিতি দেশজুড়ে। বাড়িতেই গড়ে তুলেছেন নিজস্ব প্রতিষ্ঠান ‘রেইনবো এগ্রো ফুড’। কাঁঠালের চিপস বিক্রি করে বর্তমানে প্রতি মাসে গড়ে ২০ হাজার টাকা আয় করছেন তিনি।

১৯৯৬ সালে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময়ই বিয়ে হয়ে যায় রুপার। শ্বশুরবাড়ি যশোরে এসে কাটে জীবনের কঠিন সময়গুলো। সন্তান জন্ম, সংসারের ব্যস্ততা—সব সামলেই খুঁজে ফেরেন নিজের জায়গা। একসময় খাবার সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে আগ্রহী হয়ে উঠেন।

২০১৯ সালে উন্নয়ন সংস্থা ‘সুশীলন’ এবং পরে ‘বন্ধন’-এর মাধ্যমে প্রশিক্ষণ নেন। শিখে ফেলেন আচার, জ্যাম, জেলি ও কুমড়োর বড়ি তৈরির কৌশল। তবে ২০২৫ সালে নতুনভাবে শুরু করেন কাঁঠালের চিপস তৈরির কাজ, যা একদিকে নতুনত্ব, অন্যদিকে তার আয়ের বড় উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রুপার মতে, “কাঁঠাল মৌসুমে পেকে যায়, কিন্তু সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় অনেক অপচয় হয়। আমি ভাবলাম কিছু করা যায় কি না। তখনই চিপস বানানোর আইডিয়া আসে।”

প্রথমে অন দ্যা জব প্রশিক্ষণ নেন ‘প্রিজম এগ্রো অ্যান্ড ফুড’ থেকে। পরে শুরু করেন নিজেই চিপস তৈরি। প্রতিদিন গড়ে তৈরি করেন ৩০০ প্যাকেট। প্রতিটি প্যাকেট বিক্রি হয় ২০ টাকায়।

“প্রথমে সবাই হাসতো, বলত – কাঁঠালের আবার চিপস হয়? এখন সেই সবাই এসে কিনে নিয়ে যায়, অনেকেই শিখতে চায়,” জানান রুপা।

রুপা এখন শুধু চিপসই তৈরি করেন না, চিপসের জন্য ১৮০০ কেজির বেশি প্রসেসিং কাঁঠাল নিজেই সরবরাহও করছেন। তবে প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে চান মেশিনের সাহায্যে।

তার ভাষায়, “আমি এখন সব হাতে করি। যদি ভ্যাকুয়াম ফ্রায়ার, ডি-অয়েলিং মেশিন আর প্যাকেজিং ইউনিট পাই, তাহলে বছরে ৩-৪ মাস নয়, পুরো বছরই চিপস বাজারে দিতে পারব।”

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সিনিয়র কর্মকর্তা কিশোর কুমার সাহা বলেন, “রুপা খাতুন শুধু একজন সফল উদ্যোক্তা নন, তিনি নারী উদ্যোক্তাদের জন্য রোল মডেল। তার কাজকে এগিয়ে নিতে যা যা লাগে আমরা দেখছি।”

প্রিজম এগ্রো অ্যান্ড ফুড এবং প্রিজম হোটেল ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট এই উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান বশির আহমেদ চন্দন বলেন, “আমরা চাই প্রত্যন্ত গ্রামের রুপারা যেন দেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।”

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন