ইসলামে বিয়ের ক্ষেত্রে ‘কবুল’ বলা নয়, বরং সম্মতি প্রকাশই মুখ্য বিষয় বলে জানিয়েছেন ইসলামি চিন্তাবিদরা। শরিয়ত অনুযায়ী, বিয়ে তখনই সম্পন্ন হয় যখন প্রাপ্তবয়স্ক নারী–পুরুষ পরস্পরের প্রতি সম্মত হন, এবং সাক্ষীদের উপস্থিতিতে বর ‘কবুল’ জানান।
একটি প্রচলিত ভুল ধারণা হলো—বিয়ের সময় কনেকে তিনবার ‘কবুল’ বলতে হয়। অথচ ইসলামী শরিয়তে এর কোনো বাধ্যতামূলক ভিত্তি নেই। হাদিস অনুযায়ী, কনের সম্মতি মৌখিক না হলেও তার মৌনতা বা চুপ থাকাও সম্মতির সমতুল্য বিবেচিত হয়, বিশেষ করে কুমারী কনের ক্ষেত্রে। (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)
হাদিসে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, পূর্ববিবাহিতা নারীকে তার স্পষ্ট অনুমতি ছাড়া এবং কুমারী নারীকে তার সম্মতি ছাড়া বিয়ে দেওয়া যাবে না। রাসুল (সা.) বলেন, “তার চুপ করে থাকাটাই তার সম্মতি।” (সহিহ বুখারি)
ধর্মীয় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বরং বর্তমানের ‘তিনবার কবুল বলানো’ প্রথা একটি নতুন উদ্ভাবিত রীতি (বিদআত), যা ইসলামী পর্দা এবং নারীর সম্মানবোধের পরিপন্থী হতে পারে। কারণ এতে তাকে লোকচক্ষুর সামনে এনে বিব্রত করা হয়।
একজন আলেম বলেন, “ইসলামে বিয়ের শর্ত হলো—দুই পক্ষের সম্মতি, ইজাব (প্রস্তাব) ও কবুল (গ্রহণ), এবং কমপক্ষে দুটি সাক্ষী। এক্ষেত্রে কনের সম্মতি অভিভাবক পূর্বেই যাচাই করে থাকেন। সেই অনুযায়ী ইজাব পেশ করা হয়।”
ইসলামী বিয়ের মূল ধাপ:
-
প্রাপ্তবয়স্ক দুই পক্ষের সম্মতি
-
ইজাব (প্রস্তাব) ও কবুল (গ্রহণ)
-
দুইজন সাক্ষীর উপস্থিতি
-
বিয়ের খুতবা এবং মেহের নির্ধারণ
ধর্মীয় পণ্ডিতদের মতে, শরিয়তের বিধান থেকে দূরে না সরে বরং সরল, সম্মানজনক ও প্রথাগত বিয়ের রীতিই সমাজে চালু করা উচিত। শুধু আনুষ্ঠানিকতার নামে নারীদের প্রকাশ্যে তিনবার কবুল বলানো ইসলামি শিক্ষার মূল উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করে।

