আপনার হাত কি মাঝেমধ্যেই কাঁপে? এটি হয়তো সাধারণ কোনো বিষয় বলে মনে হচ্ছে, কিন্তু নিয়মিত বা দীর্ঘমেয়াদে হাত কাঁপার পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে নানা শারীরিক ও মানসিক কারণ। চিকিৎসকরা বলছেন, উপেক্ষা না করে সময়মতো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানোই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্নায়বিক দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে পারকিনসন রোগে আক্রান্তদের মধ্যে এই লক্ষণ বেশি দেখা যায়। এই রোগে হাত এমনকি শরীরের অন্যান্য অংশও বিশ্রামের সময় কাঁপে।
চা, কফি বা ধূমপানের পরিমাণ যদি মাত্রাতিরিক্ত হয়, তাহলে শরীরে নিকোটিন ও ক্যাফেইনের প্রভাবে স্নায়ু উত্তেজিত হয়ে হাত কাঁপতে শুরু করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে সাবধান হতে বলছেন।
ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে ইনসুলিন নেওয়ার পরে বা দীর্ঘসময় না খাওয়ার ফলে ব্লাড সুগার লেভেল হঠাৎ কমে গেলে হাত কাঁপা শুরু হয়। এ সময় দ্রুত কিছু খাওয়ানো প্রয়োজন।
ঘাবড়ে যাওয়া, ভয়, টেনশন বা উদ্বেগ থেকেও শরীরের স্বাভাবিক রেসপন্স হিসেবে হাত কাঁপতে দেখা যায়। যদিও এটি সাময়িক, তবে অতিরিক্ত হলে তা চিকিৎসার আওতায় আনা দরকার।
থাইরয়েড গ্রন্থি অতিসক্রিয় হলে হাত কাঁপার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। মেটাবলিজম বেড়ে গিয়ে শরীর অতিরিক্ত সাড়া দেয় এবং স্নায়ু অস্থির হয়ে পড়ে।
অ্যাজমা, ডিপ্রেশন বা স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ গ্রহণের পর অনেক সময় কাঁপুনি দেখা দিতে পারে। ওষুধ পরিবর্তনের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
বিশেষ করে ভিটামিন বি১২, ম্যাগনেসিয়াম এবং পটাশিয়ামের অভাব থাকলেও হাত কাঁপে। সুষম খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সাপ্লিমেন্টে এই ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাত কাঁপা একবার হলে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে নিয়মিত হলে কিছু বিষয় মেনে চলা জরুরি:
-
পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম নিন
-
মানসিক চাপ কমান
-
পুষ্টিকর খাবার খান
-
প্রয়োজন হলে রক্ত পরীক্ষা করুন
-
চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
স্বাস্থ্য উপেক্ষা করলে তার মাশুল দিতে হয় দীর্ঘমেয়াদে। তাই হাত কাঁপার মতো ছোট লক্ষণও অবহেলা না করে সচেতন থাকুন, সুস্থ থাকুন।

