বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে বহুল আলোচিত বন্ড কেলেঙ্কারির পর্দা উন্মোচন করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। দীর্ঘদিন ধরে যাঁরা ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থেকে ‘প্রতিষ্ঠানিক বিশ্বাসযোগ্যতা’র গল্প শুনিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেই এবার এসেছে বিস্ফোরক অভিযোগ।
বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ সহযোগী সালমান এফ রহমানকে ১০০ কোটি টাকা জরিমানা এবং আজীবন পুঁজিবাজারে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার ছেলে সায়ান এফ রহমানকেও ৫০ কোটি টাকা জরিমানা ও একই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে।
২০২৩ সালে অনুমোদিত শ্রীপুর টাউনশিপ গ্রিন জিরো কুপন বন্ড এর আড়ালে চলেছে জমি উন্নয়নের নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার খেলা। মাত্র ৪ দিনের ব্যবধানে ২৪৮ কোটি টাকা উত্তোলনের ঘটনা তদন্ত কমিটিকে হতবাক করেছে। অবাক কাণ্ড, আইএফআইসি ব্যাংক বন্ড ইস্যু না করেও “আইএফআইসি আমার বন্ড” নামে প্রচারণা চালিয়ে বিনিয়োগকারীদের প্রতারিত করা হয়েছে। তখন ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন স্বয়ং সালমান এফ রহমান।
২০২১ সালের ২৩ জুন অনুমোদিত ৩০০০ কোটি টাকার ‘বেক্সিমকো গ্রিন সুকুক’ বন্ডেও ব্যাপক অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। অনুমোদন পাওয়া ৫০০ কোটির জায়গায় গোপনে ৩২৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করে নিয়ম ভঙ্গ করা হয়। এভাবে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বছরের পর বছর ধরে যাঁরা ‘উন্নয়ন’ আর ‘পরিষ্কার স্বচ্ছতা’র কথা বলে আসছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেই বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে বিএসইসি। যদিও এই সিদ্ধান্ত একটি সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন অর্থনীতি বিশ্লেষকরা, তারা বলছেন – এটি যেন ‘একদিনের শো’ না হয়ে যায়।

