২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যালট বাক্স রাতে ভরে রাখার প্রস্তাব এসেছিল শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাদের দিক থেকে—এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের জবানবন্দিতে। তিনি বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত এবং ইতোমধ্যে দোষ স্বীকার করে আদালতে বক্তব্য দিয়েছেন।
জানা গেছে, মামুনের জবানবন্দিতে বলা হয়, নির্বাচনের আগে তৎকালীন আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘রাতেই ৫০% ভোট ব্যালটে নিশ্চিত করার’ পরামর্শ দেন। সরকারের পক্ষ থেকে মাঠ প্রশাসন—যেমন জেলা প্রশাসক (ডিসি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি), পুলিশ সুপার (এসপি) এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য ইউনিটকে এ বিষয়ে মৌখিকভাবে অবহিত করা হয়।
মামুন আরও দাবি করেন, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার মতো গুরুতর বিষয় তদারকি করতেন প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকী।
এছাড়া মামুন নিজেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও অন্যান্যদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন এবং ‘রাজসাক্ষী’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন।
সাবেক আইজিপি মামুনকে গত বছরের সেপ্টেম্বরে গ্রেপ্তার করা হয় এবং নভেম্বরে তিনি সিএমএম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলার আবেদনে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এই জবানবন্দি যদি সত্য হয়, তবে এটি শুধুমাত্র নির্বাচনী অনিয়মের প্রশ্ন নয়, বরং তা আন্তর্জাতিক মানের মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়তে পারে—মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা।
সরকার বা অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট দলগুলো প্রতিবেদনটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মনগড়া বলে আখ্যা দিতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।

