বিএনপির ভেতরে এক বিশাল ‘শুদ্ধি অভিযান’ চলছে। দলের হাইকমান্ড থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যায়—সবারই নজর এখন একটি কথায়: “শৃঙ্খলা নয়, ছাড় নয়।”
চাঁদাবাজি, দখলদারি, তদবির বাণিজ্য ও ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে ইতোমধ্যেই শত শত নেতাকর্মীকে বহিষ্কার, সতর্ক, বা কারণ দর্শানোর মুখোমুখি হতে হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন—এটি এক ধরনের “রাজনৈতিক ডিটক্সিফিকেশন” যার মাধ্যমে বিএনপি আগাম নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজেদের ঝালিয়ে নিচ্ছে।
দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন:
“চাঁদাবাজ, উচ্ছৃঙ্খল ও অপকর্মে লিপ্ত নেতাদের কোনো প্রকার ছাড় নয়। প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হবে।”
এই ঘোষণার পরপরই চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করা হয় এবং একদিনেই ২০ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়। এদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস কাদের চৌধুরীও।
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, বহিষ্কৃত প্রায় ১৬০০ নেতাকর্মী শাস্তি প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন। তবে দল এখনও ‘ক্লিন হাউজ’ সম্পন্ন করতে চায়। সূত্র বলছে, নির্বাচন তফসিল ঘোষণার সময়ই হবে “মাফ করবেন কি করবেন না” সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
বিএনপির এই অভ্যন্তরীণ ঝাঁড়ু অভিযানকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দেখছেন “ক্ষমতার পথে শৃঙ্খলার প্রস্তুতি” হিসেবে। সুশাসনের দাবিদার হয়ে জনগণের সামনে যেতে হলে, প্রথমে নিজেদের ঘরেই শৃঙ্খলা ফেরাতে হয়—সেটিই এখন করছে বিএনপি।
এই অভিযান শুধু দোষীদের শাস্তি নয়, বিএনপির রাজনৈতিক বার্তা। দলটি বলছে—আমরা বদলেছি, এবং বদল আনতেও প্রস্তুত।

