সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

‌অজুর ফরজ ও সুন্নত নিয়ে ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি

ডেস্ক রিপোর্ট।।

অজু ইসলামে পবিত্রতার প্রথম ধাপ। নামাজসহ অনেক ইবাদতের পূর্বশর্ত এই অজু। ইসলামী শরিয়তে অজুর কিছু ফরজ এবং কিছু সুন্নত কাজ নির্ধারিত আছে, যা পালন করা ইমানদারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পবিত্র কোরআনে সুরা মায়েদার ৬ নম্বর আয়াতে অজুর ফরজ চারটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আয়াতে বলা হয়েছে—

“হে মুমিনগণ! যখন তোমরা নামাজের জন্য উঠবে, তখন তোমাদের মুখ ও কনুই পর্যন্ত হাত ধৌত করো, মাথা মাসাহ করো এবং টাখনু পর্যন্ত পা ধৌত করো।” — (সুরা আল-মায়েদা: ৬)

এই আয়াতের ভিত্তিতে অজুর চারটি ফরজ নির্ধারিত হয়েছে:

১. পুরো মুখ ধোয়া – এক কানের লতি থেকে আরেক কানের লতি পর্যন্ত এবং কপালের চুলের গোড়া থেকে থুতনির নিচ পর্যন্ত।
২. উভয় হাত কনুইসহ ধোয়া
৩. মাথার চতুর্থাংশে মাসাহ করা
4. উভয় পা টাখনুসহ ধোয়া

ফরজ পালন ব্যতীত অজু হবে না, এবং অজু না হলে নামাজও সহি হবে না।

দাড়ি সম্পর্কিত করণীয়

যাদের ঘন দাড়ি আছে, তাদের শুধু দাড়ির উপরিভাগ ধুয়ে দেওয়া ওয়াজিব। তবে পাতলা দাড়ির ক্ষেত্রে পানি দাড়ির নিচে চামড়া পর্যন্ত পৌঁছাতে হবে। দাড়ির নিচের ঝুলে থাকা অংশ মাসাহ করা সুন্নত হিসেবে গণ্য হয়।

অজুর সুন্নত কাজসমূহ

ইসলামী ফিকহ অনুযায়ী, অজুর সুন্নত কাজ ১৮টি। এর মধ্যে রয়েছে:

  • অজুর শুরুতে নিয়ত করা

  • বিসমিল্লাহ পড়া

  • কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া

  • মিসওয়াক ব্যবহার

  • প্রতিটি অঙ্গ তিনবার ধোয়া

  • আঙুলের খিলাল, কান ও ঘাড় মাসাহ

  • অঙ্গ ধোয়ার ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা ও সময়ের ব্যবধান না রাখা

ধর্মবিশারদদের মতে, অজুর এই সুন্নত কাজগুলো পালন করলে একদিকে যেমন শরিয়ত মোতাবেক ইবাদত সম্পন্ন হয়, অন্যদিকে শারীরিক পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্য রক্ষাও নিশ্চিত হয়।

ইসলামী চিন্তাবিদরা মনে করেন, প্রতিদিনের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আগে নিয়মিত অজু একজন মানুষকে শুদ্ধতা ও আত্মশুদ্ধির পথে চালিত করে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন