জাতীয় ঐকমত্য কমিশন আগামী সংসদে একটি ১০০ আসনের উচ্চকক্ষ গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যেখানে সদস্য নির্বাচন হবে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (Proportional Representation – PR) পদ্ধতিতে। আজ দ্বিতীয় ধাপের রাজনৈতিক সংলাপের ২৩তম দিনে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ মধ্যাহ্ন বিরতির পর সাংবাদিকদের জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য না থাকায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব কমিশনের ওপর ন্যস্ত করা হয়।
কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, উচ্চকক্ষ কোনো আইন প্রণয়ন করতে পারবে না। তবে অর্থবিল বাদে অন্যান্য বিল উচ্চকক্ষে পেশ করতে হবে। বিল অনুমোদন বা সংশোধনের পর নিম্নকক্ষে পাঠানো হবে। এক মাসের মধ্যে উচ্চকক্ষে বিল অনুমোদন না হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত বলে বিবেচিত হবে।
নির্বাচনের সময় উচ্চকক্ষের জন্যও প্রার্থী তালিকা দিতে হবে। প্রার্থীদের কমপক্ষে ১০ শতাংশ নারী হতে হবে।
বিএনপি, লেবার পার্টি, এনডিএম ও ১২-দলীয় জোট পিআর পদ্ধতির উচ্চকক্ষ গঠনের বিরোধিতা করে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমরা এই পদ্ধতির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করছি। আমাদের অবস্থান কমিশনের নথিতে থাকলে তবেই স্বাক্ষর করব।”
সিপিবি, বাসদ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামসহ বামপন্থী ও ইসলামপন্থী কয়েকটি দল উচ্চকক্ষ চায় না বলে স্পষ্ট জানায়। নাগরিক ঐক্য জানায়, উচ্চকক্ষে আইন প্রণয়নের ক্ষমতা না থাকলে সেটি অর্থহীন। তারা কার্যকর একক সংসদীয় কাঠামো চান।
এটি হবে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ গঠনের উদ্যোগ। পিআর পদ্ধতির উচ্চকক্ষ রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে।

