দেশের আগামী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আইনসভার দুই কক্ষের সদস্যদের গোপন ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলো। বৃহস্পতিবার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দ্বিতীয় ধাপের সংলাপের ২৩তম দিনে মধ্যাহ্ন বিরতির পর আলোচনায় বিষয়টি চূড়ান্ত হয়।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের পক্ষ থেকে উপস্থাপন করা প্রস্তাবে বলা হয়, নতুন কাঠামোয় বাংলাদেশে একজন রাষ্ট্রপতি থাকবেন, যিনি জাতীয় সংসদ (নিম্নকক্ষ) ও উচ্চকক্ষের সদস্যদের গোপন ভোটে নির্বাচিত হবেন।
রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে বর্তমানে সংবিধানের ৪৮(৪) অনুচ্ছেদে উল্লেখিত যোগ্যতাসমূহ বলবৎ থাকবে। তবে কমিশনের প্রস্তাব অনুসারে নতুন একটি ধারা যুক্ত করা হবে—৪৮(৪)(ঘ)। এতে বলা হবে, রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মনোনয়নের সময় কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রীয়, সরকারি বা রাজনৈতিক দলের পদে থাকতে পারবেন না।
এই ধারাটির মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি পদকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
সংলাপে উপস্থিত বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল এই প্রস্তাবে সম্মতি প্রকাশ করেছে। জাতীয় ঐকমত্য গঠনের অংশ হিসেবে এটি একটি বড় অগ্রগতি বলে মনে করছেন অংশগ্রহণকারীরা।
কমিশনের একজন সদস্য বলেন, “রাষ্ট্রপতির নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে এই প্রক্রিয়ায় সর্বসম্মতি প্রাপ্ত হয়েছে। এটা গণতন্ত্রের বিকাশে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।”

