ভারতের ওপর উচ্চহারে শুল্ক আরোপের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের মধ্যে বড় ধরনের জ্বালানি চুক্তির ঘোষণা দিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একেই অনেকে ওয়াশিংটনের নতুন দক্ষিণ এশিয়া কূটনীতির স্পষ্ট বার্তা বলে দেখছেন।
ট্রাম্প বলেন, “পাকিস্তান বড় খনিজ সম্ভাবনার দেশ। আমরা তাদের পাশে থাকব। এমনকি একদিন এই পাকিস্তান ভারতেও তেল রপ্তানি করতে পারে!”
একই সময় ভারতের বিরুদ্ধে ২৫% পাল্টা শুল্ক আর ‘রাশিয়া সংযোগ’ নিয়ে অতিরিক্ত জরিমানা ঘোষণা করে ওয়াশিংটন।
২০১৮ সালে ট্রাম্প যখন প্রথম প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তখন পাকিস্তানকে ‘ধোঁকাবাজ’ বলেছিলেন। অথচ এখন সেই পাকিস্তানের সেনাপ্রধান থেকে এয়ার চিফ—সবাই হোয়াইট হাউজের আতিথ্য পাচ্ছেন, সম্মানিত হচ্ছেন ইসলামাবাদে। এমনকি পাকিস্তান সরকার ট্রাম্পের নাম নোবেল শান্তি পুরস্কারে প্রস্তাবও পাঠিয়েছে।
বুধবার ট্রাম্প জানালেন, পাকিস্তানের ‘বিপুল তেল সম্পদ’ বিকশিত করতে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্ব দেবে। কোন কোম্পানি নেতৃত্ব দেবে, তা নিয়েও কাজ চলছে। যদিও তেল মজুত কোথায়—সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি।
সম্প্রতি মার্কিন জেনারেল কুরিলাকে পাকিস্তান সামরিক সম্মান ‘নিশান-ই-ইমতিয়াজ’ দিয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে অংশীদার হিসেবেও ট্রাম্প প্রশাসন ইসলামাবাদকে ‘বিশ্বাসযোগ্য’ বলছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাকিস্তান এফ-১৬ জেট, স্প্যারো মিসাইল, হাই মোবিলিটি আর্টিলারি সিস্টেমসহ মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম কেনার প্রস্তুতিতে আছে।
ভারত এতদিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘কোয়াড’ জোটের কৌশলগত অংশীদার থাকলেও ট্রাম্প সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে ভারতের অবস্থান কিছুটা নড়বড়ে হয়ে পড়ছে।
ভারতের পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞ কে সি সিং বলেন, “চীনের বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে একটা ব্যালান্সিং ফ্যাক্টর ভাবত। কিন্তু ট্রাম্প সরাসরি চীনের সঙ্গে ডিল করতে চান। এতে ভারত দুর্বল হয়ে পড়ছে।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতকে এক পাশে রেখে পাকিস্তানের সঙ্গে মার্কিন ঘনিষ্ঠতা শুধু অর্থনৈতিক বা সামরিক নয়—এই সম্পর্কের ভেতরে আছে ক্রিপ্টোচুক্তি, ট্রাম্প পরিবারের আর্থিক অংশীদারিত্ব এবং পারমাণবিক সমীকরণে নতুন হিসাব।
এদিকে ট্রাম্প দাবি করেছেন, গত মে মাসে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি এসেছে তার মধ্যস্থতায়। ভারত তা অস্বীকার করলেও পাকিস্তান তা মেনে নিয়েছে।
ভারতের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু এখন পরিস্থিতি যে বদলাচ্ছে—তা পরিষ্কার। নতুন জোট, নতুন সমীকরণ—ভারতের কূটনীতিকে নতুন করে ভাবতে হতে পারে।

