সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

ভর্তিতে জালিয়াতি, স্থগিত বেনজীর আহমেদের ডক্টরেট ডিগ্রি

ডেস্ক রিপোর্ট।।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ থেকে অর্জিত ডক্টর অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ডিবিএ) ডিগ্রি স্থগিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ভর্তির সময় জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়ার পর।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান তথ্যানুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন, যেখানে উল্লেখ করা হয়—বেনজীর আহমেদ ভর্তির মৌলিক যোগ্যতা পূরণ করেননি, বরং মিথ্যা তথ্য দিয়ে এবং অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিবিএ প্রোগ্রামে ভর্তি হয়েছিলেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভর্তির ফরমে নথির ক্রমিক নং ৫৪-এ বিভিন্ন কালি ব্যবহার করে অসঙ্গতিপূর্ণ তথ্য প্রদান করা হয়েছে এবং শিক্ষাগত যোগ্যতায় ৫০ শতাংশ নম্বর না থাকা সত্ত্বেও তাকে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী, ডিবিএ প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে কমপক্ষে ৫০ শতাংশ নম্বর বাধ্যতামূলক।

বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট এ অনিয়মের বিষয়টি আমলে নিয়ে ৫ সদস্যের একটি উচ্চতর তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন আইন অনুষদের ডিন, সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ, মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম এবং রেজিস্ট্রার মুন্সী শামস উদ্দিন আহম্মদ।

তদন্ত কমিটিকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। রিপোর্ট জমা না দেওয়া পর্যন্ত বেনজীর আহমেদের ডক্টরেট ডিগ্রি স্থগিত থাকবে বলে সিন্ডিকেট সিদ্ধান্ত নেয়।

উল্লেখ্য, বেনজীর আহমেদ ২০১৯ সালে ডিবিএ ডিগ্রি অর্জনের পর থেকে নিজেকে “ড. বেনজীর আহমেদ” নামে পরিচয় দিয়ে আসছিলেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, তৎকালীন ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম তার পৃষ্ঠপোষকতায় শর্ত শিথিল করে ভর্তি ও ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ করে দেন। তিনি বেনজীরের গবেষণা তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্বেও ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মহল বলছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার এই ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন