বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

পদ্মা নদীতে দুই বাংলাদেশির মরদেহ উদ্ধার, অ্যাসিডে ঝলসে যাওয়ার অভিযোগ

ডেস্ক রিপোর্ট।।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্তঘেঁষা পদ্মা নদী থেকে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মরদেহ উদ্ধার করেছে বিজিবি। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিহতদের মধ্যে একজনের দেহে অ্যাসিডে ঝলসানোর চিহ্ন রয়েছে, যা সীমান্তের ওপারে নির্মম নির্যাতনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

শনিবার (২ আগস্ট) বিকেল তিনটায় মাসুদপুর এলাকার চৌধুরী স্মরণ সীমান্ত পিলার ৪/২-এস থেকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার ভেতরে পদ্মা নদীতে মরদেহ দুটি ভাসতে দেখা যায়। খবর পেয়ে বিজিবি মরদেহগুলো উদ্ধার করে।

নিহতরা হলেন—মনাকষা ইউনিয়নের তারাপুর হঠাৎপাড়া গ্রামের মো. শফিকুল ইসলাম (৪৫) ও মো. সেলিম (৩৫)। স্থানীয়রা জানান, শফিকুল গত বৃহস্পতিবার গরু আনতে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। শনিবার পদ্মায় তার মরদেহ ভেসে উঠলে পরিবারের লোকজন শনাক্ত করেন।

শফিকুলের ভগ্নিপতি ও স্থানীয় ইউপি সদস্য সমির উদ্দিন বলেন, “তার শরীরে অ্যাসিডে পোড়ার দাগ ছিল। এমন পাশবিক নির্যাতন আমরা আগে দেখিনি।”

নিহতদের পরিবার ও এলাকার লোকজন ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। তাদের দাবি, বিএসএফ এখন আর গুলি করে হত্যা না করে শারীরিক নির্যাতন করে মৃত্যু নিশ্চিত করছে এবং পরে মরদেহ নদীতে ফেলে দিচ্ছে যাতে প্রমাণ লোপাট হয়।

এই ঘটনার কয়েকদিন আগেই মনোহরপুর সীমান্তে একইভাবে নিখোঁজ হয়েছিলেন গরু ব্যবসায়ী সৈয়বুর আলী, যিনি পরে নিহত অবস্থায় পাওয়া যান। তার সঙ্গী রুহুল আলী এখনও নিখোঁজ।

৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফাহাদ মাহমুদ রিংকু জানান, “মরদেহ উদ্ধারের পর শিবগঞ্জ থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান চলছে।”

পুলিশ মরদেহ দুটি থানায় নিয়ে গেছে। ময়নাতদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে শিবগঞ্জ থানা কর্তৃপক্ষ।

একাধিক মৃত্যুর ঘটনায় শিবগঞ্জসহ আশপাশের সীমান্ত এলাকায় চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকাবাসী অবিলম্বে সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার এবং বিএসএফের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনার দাবি জানিয়েছে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন