বর্তমান ডিজিটাল যুগে পাসওয়ার্ড হয়ে উঠেছে আমাদের ব্যক্তিগত এবং আর্থিক নিরাপত্তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হ্যাকারদের দৌরাত্ম্যে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট ও তথ্য সুরক্ষার ঝুঁকি অনেকটাই বেড়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়া, ই-মেইল থেকে শুরু করে ব্যাংকিং সেবা—সবখানেই শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, সাধারণ ও অনুমানযোগ্য পাসওয়ার্ড ব্যবহারকারীদেরই সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়তে হয়।
পাসওয়ার্ড হোক শক্তপোক্ত ও জটিল
সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, নিরাপদ পাসওয়ার্ড গঠনে বড় হাতের অক্ষর, ছোট হাতের অক্ষর, সংখ্যা এবং বিশেষ চিহ্ন একসাথে ব্যবহার করা উচিত। যেমন: R@na2025!—এই ধরনের পাসওয়ার্ড অনুমান করা কঠিন এবং হ্যাকারের জন্যও ভাঙা দুরূহ।
ব্যক্তিগত তথ্য এড়িয়ে চলুন
নাম, জন্মতারিখ, স্ত্রী বা সন্তানের নাম—এসব তথ্য ব্যবহার করে পাসওয়ার্ড তৈরি করলে তা সহজেই অনুমানযোগ্য হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে পোষা প্রাণীর নাম বা বছরের তথ্যও নিরাপদ নয়।
নিয়মিত পরিবর্তন ও দুই ধাপ নিরাপত্তা জরুরি
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতি ১-৩ মাস অন্তর পাসওয়ার্ড বদলে ফেলা উচিত। সেই সঙ্গে যেসব অ্যাপ বা প্ল্যাটফর্মে টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (2FA) সুবিধা রয়েছে, সেগুলো অবশ্যই সক্রিয় রাখতে হবে।
এক পাসওয়ার্ড সবখানে নয়
বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে ভিন্ন ভিন্ন পাসওয়ার্ড ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। কারণ একটি পাসওয়ার্ড ফাঁস হলে যাতে অন্যান্য অ্যাকাউন্ট ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
কোনো সংস্থা বা ব্যাংকের নাম করে ফোন, মেসেজ বা ইমেইলের মাধ্যমে পাসওয়ার্ড বা পিন চাওয়া হলে সঙ্গে সঙ্গে সতর্ক হোন। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রতারণা থেকে নিজেকে রক্ষা করুন।

