২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলন দমনের নির্দেশ সংক্রান্ত একটি কথিত ফোনালাপ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করায় রাজনৈতিক অঙ্গনসহ আইনি মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। ট্রাইব্যুনালে দেওয়া প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্যে দাবি করা হয়, আন্দোলনকারীদের দমন করতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তৎকালীন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের মধ্যে কথোপকথনে ‘লেথাল উইপন’ (মারণাস্ত্র) ব্যবহারের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
প্রসিকিউশন বলছে, উপস্থাপিত অডিও ক্লিপটি “প্রত্যক্ষ ও পরিষ্কারভাবে” প্রমাণ করে, শীর্ষ পর্যায় থেকেই সহিংস দমন-পীড়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, “এটি নিছক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, এটি মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার এক গুরুতর ইঙ্গিত।” তিনি আরও দাবি করেন, “কোথাও কোনো শান্তিপূর্ণ সমাবেশ দেখলেও শক্তি প্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।”
তবে এই ফোনালাপের সত্যতা নিয়ে এখনো কোনো স্বাধীন ফরেনসিক বিশ্লেষণ হয়নি। ট্রাইব্যুনাল সূত্র জানিয়েছে, অডিওর সত্যতা যাচাই প্রক্রিয়াধীন।
এ বিষয়ে আইনজীবী ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “এ ধরনের অডিও যদি সত্য হয় এবং অনুমোদিত উৎস থেকে আসে, তবে তা অবশ্যই বিচারযোগ্য প্রমাণ হতে পারে। তবে নিশ্চিত হতে হবে, এটি কোনোভাবে মনিপুলেটেড নয়।”
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ আইনজীবীরা একে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, “অডিও ক্লিপের টুকরো অংশ দিয়ে কোনো রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে মামলা সাজানো হলে, সেটি আইনের অপব্যবহার হবে।”
বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো বিষয়টিকে ‘গণহত্যার প্রমাণ’ বলে দাবি করছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, এটি একটি সাজানো নাটক এবং একটি ‘জুলাই চেতনা’কে পুঁজি করে নতুন করে রাজনীতি গরম করার চেষ্টা।
আদালত সূত্র জানিয়েছে, ফোনালাপটি যাচাই করতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে একটি নিরপেক্ষ ফরেনসিক অডিও বিশ্লেষণ করার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে। পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারিত হয়েছে আগামী ১২ আগস্ট।

