ঢাকার পুরান অংশে অবস্থিত ঐতিহাসিক ‘রোজ গার্ডেন’ বাড়ি সরকার ৩৩১ কোটি ৭০ লাখ টাকায় কিনেছে—এমন একটি কেনাকাটা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে প্রশ্ন উঠেছে সরকারের ক্রয় প্রক্রিয়া, মূল্য নির্ধারণ এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বাড়িটি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে প্রচলিত সরকারি ক্রয়বিধি ও ভেটিং প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে প্রেরিত একটি ‘ব্যক্তিগত অভিপ্রায়’ সংবলিত চিঠির ভিত্তিতেই বাড়িটি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তৈরি করা একাধিক নথিতে দেখা গেছে, বাড়িটির প্রাথমিক মূল্য ধরা হয় প্রায় ১০৫ কোটি টাকা। এরপর দফায় দফায় সংশোধন করে শেষ পর্যন্ত তা দাঁড়ায় ৩৩১ কোটি ৭০ লাখ টাকায়। একইসঙ্গে গুলশান এলাকার একটি সরকারি বাড়িও বিনিময় হিসেবে মালিকপক্ষের হাতে হস্তান্তর করা হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বাড়িটি ‘ঐতিহাসিক গুরুত্ব’ বিবেচনায় রাষ্ট্রীয় সম্পদ হিসেবে রেজিস্ট্রি করে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয় মাত্র ১,০০১ টাকায়।
নথিপত্রে জানা গেছে, আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং চাওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তা লিখিতভাবে না দিয়ে ‘আইনসম্মত নয়’ এমন ইঙ্গিত দিলে, তৎকালীন আইনমন্ত্রীর মৌখিক অনুমোদনের ভিত্তিতেই প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়। এটি সরকারি নথিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বাড়িটির সঙ্গে আওয়ামী লীগের গঠনের ইতিহাস যুক্ত করে এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও পুরাতত্ত্ববিদদের একাংশের দাবি, রোজ গার্ডেনের প্রকৃত নাম ছিল ‘রশিদ মঞ্জিল’, যা একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন আবাস ছিল মাত্র।
২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাড়িটি সংস্কার ও সংরক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয় জাতীয় জাদুঘর, শিল্পকলা একাডেমি ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরকে। বাড়িটিকে ‘ঢাকা জাদুঘর’ এবং সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে খুলে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

