জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মনোনয়নবিরোধী আদালতে শুনানি শুরু হওয়ার আগে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, “পৃথিবীর ইতিহাসে এমন কোনো স্বৈরাশাসক জন্মায়নি, যার বিপুল মিথ্যা ও অত্যাচার শেখ হাসিনার মতো।” তার বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনা মৃত্যুর অপরাধে তার সমকক্ষদের থেকেও এগিয়ে।
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান সংক্রান্ত মামলায় ট্রাইব্যুনাল‑১‑এর বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। এর সঙ্গে থাকেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহাম্মদ মোহিতুল হক। অনুষ্ঠানটি ট্রাইব্যুনালের ফেসবুক পেজে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
প্রধান কথোপকথনের মূল বক্তব্য:
-
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “এই আদালতে কোনো স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে চাই ন্যায়বিচার, তবে সেই বিচার নির্ভর করবে আইনের কাঠামোর মধ্যে।”
-
তিনি উল্লেখ করেন, ইতিহাসে হিটলার, ওলিভার ক্রোমওয়েলসহ বিভিন্ন স্বৈরশাসকের বিচার হয়েছে, তবে তারা শেখ হাসিনার তুলনায় মিথ্যার ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে।
-
এমপি-মন্ত্রীদের কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ছাড়াও বিনা বিচারে অব্যাহত ক্ষমতার অপব্যবহারে গণতন্ত্রবিরোধী কর্মকাণ্ডকে গর্ভে নিচ্ছে বলে মন্তব্য করেন।
জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন:
-
“২৫ বছর ধরে নানা অনিয়ম, রাতভর নির্বাচনের হীনতাকরণ, অর্থ পাচার—সবই উচ্চাকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ফল—36 দিনের গণঅভ্যুত্থান।”
-
তিনি বিশদে বলেন, “অভিযুক্ত শেখ হাসিনা দেশ থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন—যা ইতিহাসে বিরল একটি ঘটনা।”
প্রসিকিউশনের আহ্বান ও আইনি অধ্যবসায়:
-
আইনজীবী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “আমরা বিচার চাই, ধ্বংসাত্মক আব কলঙ্ক থেকে ইতিহাস নির্মল হোক।”
-
তিনি ন্যায়বিচার প্রক্রিয়ায় সকলকে সুযোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এখানে শুধু রাষ্ট্র নয়, সকল অভিযুক্ত বিচার পাবেন।”

