ইসলামে ‘বদনজর’ বা অশুভ দৃষ্টির প্রভাবকে অস্বীকার করার অবকাশ নেই। আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “বদনজর সত্য।” (সহিহ বুখারি)। একাধিক সহিহ হাদিসে বদনজরের বাস্তবতা এবং তা থেকে বাঁচার উপায় সম্পর্কে নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে বদনজরের প্রভাব বেশি দেখা যায়, কারণ তারা শারীরিকভাবে দুর্বল ও সংবেদনশীল। এজন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেও তাঁর প্রিয় নাতি হাসান ও হুসাইন (রাযি.)-এর জন্য বদনজর থেকে রক্ষার দোয়া করতেন।
তিনি দোয়া করতেন:
أُعِيذُكُمَا بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ
উচ্চারণ: উঈযুকুমা বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাহ, মিন কুল্লি শায়ত্বানিওঁ ওয়া হাম্মাহ, ওয়া মিন কুল্লি আইনিল লাম্মাহ।
অর্থ: “আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীর মাধ্যমে তোমাদেরকে আশ্রয় দিচ্ছি প্রত্যেক শয়তান, বিষধর প্রাণী এবং প্রতিটি বদনজর থেকে।” (সহিহ বুখারি)
হাদিসে এসেছে, বদনজরসহ সব ধরনের অশুভতা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সকাল ও সন্ধ্যায় সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস তিনবার করে পড়া অত্যন্ত উপকারী। রাসুল (সা.) সাহাবিদের এই আমল করার নির্দেশ দিতেন। (সুনানে তিরমিজি)
শিশুদের সৌন্দর্য আড়াল করতে বা বদনজর থেকে বাঁচাতে কালো টিপ ব্যবহার সংস্কৃতির অংশ হিসেবে থাকলেও ইসলামে এটি শুধুমাত্র একটি প্রতীকী ব্যবস্থা হিসেবে অনুমোদিত। হজরত উসমান (রাঃ) এক শিশুকে দেখে বলেছিলেন,
“তার চিবুকে কালো দাগ দিয়ে দাও, যাতে বদনজর না লাগে।” (শরহুস সুন্নাহ)
তবে ইসলামি স্কলাররা সতর্ক করেছেন—কালো টিপকে যদি কেউ বদনজর প্রতিরোধে অলৌকিক ক্ষমতাসম্পন্ন মনে করে, তাহলে তা শিরক বা গর্হিত কর্ম হিসেবে গণ্য হবে।

