রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

জঙ্গি নাটক সাজিয়ে মাদরাসাছাত্রদের ওপর বর্বর নির্যাতন চালানো হতো : শিক্ষা উপদেষ্টা

ডেস্ক রিপোর্ট।।

মাদরাসা শিক্ষার্থীদের ওপর অতীতে ‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়ে যে বর্বর নির্যাতন চালানো হয়েছে, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায় ছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সরকারপ্রধানের শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল (সিআর) আবরার।

সোমবার (৪ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর গোলাপবাগ মাঠে ‘মাদরাসা রেজিস্ট্যান্স ডে’ উপলক্ষে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. আবরার বলেন,

“একসময় বাংলাদেশে সাজানো জঙ্গি নাটকের মাধ্যমে মাদরাসাছাত্রদের ওপর ভয়ঙ্কর নির্যাতন চালানো হয়েছে। আমরা তখন হতাশ হয়ে পড়েছিলাম, মনে হয়েছিল এই রাষ্ট্রে কেউ আর স্বাধীনভাবে চলতে পারবে না। কিন্তু জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান সে দৃশ্যপট পাল্টে দিয়েছে। আজ আমরা মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নিতে পারছি।”

অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত হয় গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘প্রেরণার প্রজন্ম’, যেখানে আলেম-ছাত্রদের সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ চিত্রায়িত হয়। পাশাপাশি ছিল ইসলামিক সংগীত ও নাট্য পরিবেশনা।

বক্তব্যে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন,

“দেয়ালের গ্রাফিতি, পোস্টার, রাস্তায় স্লোগান—সবকিছুই আজ তরুণদের আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় স্পষ্ট। আমরা যেন শহীদদের রক্তের ঋণ ভুলে না যাই।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব ড. খ ম কবিরুল ইসলাম। তিনি বলেন,

“একসময় দাড়ি-টুপি দেখলেই মানুষ ধরে নিয়ে যাওয়া হতো। অথচ সেই নিপীড়িত আলেম সমাজই চব্বিশের গণজাগরণে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে। তাদের আত্মত্যাগ ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।”

তিনি আরও বলেন,

“যাত্রাবাড়ী ছিল গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম কেন্দ্র। এখান থেকেই বহু শহীদ ও আহতদের দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। মাদরাসা ছাত্রদের অসীম সাহসিকতাই আজকের এই বদলে যাওয়া বাংলাদেশের ভিত্তি তৈরি করেছে।”

২০২৪ সালের জুলাই মাসে ঘটে যাওয়া গণঅভ্যুত্থান সরকারবিরোধী দীর্ঘদিনের বিক্ষোভের চূড়ান্ত রূপ নেয়। সেই আন্দোলনে অংশ নেয় মাদরাসা শিক্ষার্থীরা, যারা অতীতে বহুবার ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে নির্যাতনের শিকার হয়েছিল।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন