বাংলাদেশের ভূখণ্ড কখনোই ভারতের স্বার্থবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডে ব্যবহার হবে না— এমন সাফ বার্তা দিয়েছেন ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ।
ভারতীয় অনলাইন সংবাদমাধ্যম The Print-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “পাকিস্তান বা চীনকে ঘিরে ভারতের যে উদ্বেগ, তা অমূলক। বাংলাদেশ কারও মদদে নয়, বরং নিজস্ব কূটনীতির ওপর ভর করে চলে।”
রিয়াজ হামিদুল্লাহ ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে অভিহিত করেছেন “পারস্পরিক আস্থা, অর্থনৈতিক স্বার্থ ও সাংস্কৃতিক বন্ধনের” একটি শক্ত ভিত্তির ওপর গড়ে ওঠা সম্পর্ক হিসেবে।
তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে যৌথ কর্মসূচি ভবিষ্যতের জন্য কার্যকর মডেল হতে পারে।
“নিরাপত্তার জায়গা গুরুত্ব রাখে, তবে আসল বিষয়— কীভাবে সম্পর্ককে অর্থনীতিনির্ভর করা যায়, নিরাপত্তানির্ভর নয়।”
সাক্ষাৎকারে সীমান্ত পারাপার ও ভারতের মেডিকেল ভিসা ইস্যুতে মানুষের ভোগান্তির কথাও তুলে ধরেন হাইকমিশনার।
তিনি বলেন, “মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। সাংস্কৃতিক আত্মীয়তা বাস্তব, কিন্তু সেটি যদি অবহেলা করা হয়, তাহলে সম্পর্কেও ভাঙন ধরতে পারে।”
চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক থাকলেও, ভারতকে বাদ দিয়ে নয়— এমন কূটনৈতিক বার্তা হাইকমিশনার দিয়েছেন দৃঢ় ভাষায়।
তিনি আশ্বাস দেন, দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রশ্নে বাংলাদেশ সবসময় দায়িত্বশীল থাকবে।
এই বিবৃতি এমন এক সময় এসেছে, যখন দক্ষিণ এশিয়ায় ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং চীনের প্রভাব নিয়ে ভারতীয় রাজনীতিতে উদ্বেগ বিরাজ করছে। বাংলাদেশের এই বার্তা আঞ্চলিক আস্থার জায়গা পুনঃস্থাপনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

