বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

বাংলাদেশিদের অনুপস্থিতিতে অচল কলকাতার হাসপাতালগুলো

ডেস্ক রিপোর্ট।।

বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের এক বছর পার হলেও ভারতের সঙ্গে স্বাভাবিক ভ্রমণ সম্পর্ক এখনো পুরোপুরি পুনরুদ্ধার হয়নি। বাংলাদেশের পর্যটকদের অনুপস্থিতিতে কলকাতার নিউমার্কেট, মারকুইস স্ট্রিট ও মুকুন্দপুরের হাসপাতালপাড়া ক্রমেই নিষ্প্রাণ হয়ে পড়ছে।

গত বছরের ৫ আগস্ট ঢাকায় ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর থেকেই ভিসা ইস্যুতে জটিলতা শুরু হয়। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ পর্যটনসহ অধিকাংশ ভিসা প্রদান বন্ধ রাখে। ফলে যে ভরসায় কলকাতার নিউমার্কেট এলাকায় হোটেল, রেস্তোরাঁ, শপিং সেন্টার ও হাসপাতালগুলো বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য নির্ভরশীল ছিল— সেই অর্থনৈতিক চাকা এখন ধীর গতিতে ঘুরছে।

মুকুন্দপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালের ব্যবস্থাপক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,

“আগে প্রতিদিনই ৫০-৬০ জন বাংলাদেশি রোগী আসতেন। এখন সপ্তাহে ৫-৬ জন এলেও সেটা অনেক। রাজস্ব আয় ৬০ শতাংশেরও বেশি কমেছে।”

নিউমার্কেটের ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাংলাদেশি ক্রেতারাই তাদের প্রধান কাস্টমার ছিলেন। তাদের অভাবে দোকানপাটে বেচাকেনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ফ্যাশন, ইলেকট্রনিক্স এমনকি হোটেল-রেস্তোরাঁ ব্যবসাও ব্যাপক ক্ষতির মুখে।

কলকাতার স্থানীয় পর্যটন সংগঠনের মতে,

“বাংলাদেশি পর্যটকরা বছরে হাজার কোটি রুপির বাজার তৈরি করতেন। এই এক বছরে সেই বাজার প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।”

দুই দেশের সম্পর্কোন্নয়ন এবং যোগাযোগ পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস্তব অগ্রগতি হয়নি। চিকিৎসা বা ব্যবসায়িক ভিসা এখনো সীমিত আকারে মিললেও সেটি প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সামান্য।

মার্কুইস স্ট্রিটের এক হোটেল ম্যানেজার বলেন,

“আগে আমাদের অতিথিদের ৮০ শতাংশই বাংলাদেশি ছিলেন। এখন পুরো ফ্লোর ফাঁকা পড়ে থাকে।”

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরলেও দ্বিপাক্ষিক কূটনীতির জট ছাড়ানো ছাড়া বাস্তব সমাধান নেই। ভিসা নীতির দ্রুত সংস্কার না হলে শুধু কলকাতার অর্থনীতিই নয়, ভারত-বাংলাদেশের পারস্পরিক মানুষের সম্পর্কে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়তে পারে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন