জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে আয়োজিত ঘোষণাপত্র পাঠ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ পাঁচ নেতা। বরং ঠিক একই সময়ে তারা অবস্থান করছিলেন কক্সবাজারের একটি পাঁচ তারকা হোটেলে—যা ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে নানা আলোচনা ও গুঞ্জন।
বিশেষ করে তাদের সঙ্গে সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের ‘গোপন বৈঠক’ অনুষ্ঠিত হয়েছে— এমন খবর ছড়িয়ে পড়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে জল্পনা।
তবে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস বলছে, সাবেক রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ নেই। দূতাবাসের মুখপাত্র আশা বে এক প্রতিক্রিয়ায় জানান, “পিটার হাস এখন একজন বেসরকারি নাগরিক। তিনি কোথায় আছেন বা কার সঙ্গে দেখা করছেন— সে বিষয়ে আমাদের কোনো তথ্য নেই।”
এদিকে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এই আলোচনাকে গুজব আখ্যা দিয়ে বলেন, “আমরা ছুটি কাটাতে কক্সবাজার এসেছি। কোনো বৈঠক হয়নি। হোটেলে ঢুকেই এমন খবর শুনলাম, যা একেবারেই ভিত্তিহীন।”
সফরসঙ্গীদের মধ্যে ছিলেন মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা এবং তার স্বামী ও যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ।
কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার সাইফউদ্দীন শাহীন নিশ্চিত করেছেন, পাঁচ এনসিপি নেতা কক্সবাজারের একটি হোটেলে অবস্থান করছেন। তবে সেখানে পিটার হাসের উপস্থিতির বিষয়ে তিনি কোনো তথ্য দেননি। বরং জানান, হোটেলটিতে কয়েকজন চীনা নাগরিক অবস্থান করছেন।
বিষয়টি ঘিরে স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীরাও সরব হয়েছেন। উখিয়া-টেকনাফের সাবেক এমপি ও কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী বলেন, “এমন একটি বিশেষ দিনে এনসিপি নেতাদের কক্সবাজার সফর ও হোটেল বাছাই—সব মিলিয়ে সন্দেহের অবকাশ রয়েছে। আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি।”
বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হলেও—সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের কক্সবাজারে অবস্থানের কোনো নিশ্চিত প্রমাণ মেলেনি। তবে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে এনসিপি নেতাদের এই সফরকে নিছক ‘ঘোরাফেরা’ হিসেবে মানতে নারাজ অনেকেই।

