শেখ হাসিনার পতনের পর ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছর পূর্ণ হয়েছে। এই এক বছরে সরকারের ১২টি উল্লেখযোগ্য সাফল্য তুলে ধরেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, “গত বছরের জুলাই বিপ্লবের পর থেকে দেশ যে নতুন পথযাত্রা শুরু করেছে, তা ইতিহাসে উদাহরণ হয়ে থাকবে।”
সরকারের ১২টি সাফল্য এক নজরে:
১. শান্তি ও স্থিতিশীলতা:
জুলাই বিপ্লবের পর দেশজুড়ে সহিংসতা ও প্রতিশোধের রাজনীতি বন্ধ হয়েছে। জাতি শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে এসেছে।
২. অর্থনীতি পুনরুদ্ধার:
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রেমিট্যান্সে রেকর্ড অর্জন, রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ও ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হয়েছে।
৩. বাণিজ্য ও বিনিয়োগ:
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সফল শুল্ক আলোচনা, চীনের আগ্রহ বৃদ্ধি এবং উল্লেখযোগ্য বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে।
৪. গণতান্ত্রিক সংস্কার:
৩০টির বেশি রাজনৈতিক দল নিয়ে ঐক্য, সংস্কার কমিশন গঠন এবং ঐতিহাসিক ‘জুলাই সনদ’ গৃহীত হয়েছে।
৫. বিচার ও জবাবদিহি:
জুলাই-আগস্ট হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া শুরু, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলাও চলমান।
৬. নির্বাচন প্রস্তুতি:
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সুষ্ঠু নির্বাচনের ঘোষণা, ডিজিটাল ভোটার প্ল্যাটফর্ম চালু, নিরাপত্তা পরিকল্পনা চূড়ান্ত।
৭. আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার:
বিচার বিভাগ, পুলিশ ও আইন কাঠামোয় পরিবর্তন; অনলাইন জিডি, দ্রুত তথ্যপ্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
৮. মতপ্রকাশের স্বাধীনতা:
সাইবার আইন বাতিল, সাংবাদিক হয়রানি বন্ধ, ইন্টারনেট অধিকারকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি।
৯. নতুন পররাষ্ট্রনীতি:
বহুমাত্রিক কূটনীতি, আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি এবং আসিয়ান সদস্যপদের উদ্যোগ।
১০. প্রবাসী ও শ্রমিক কল্যাণ:
প্রবাসী শ্রমিকদের সুযোগ বৃদ্ধি, নতুন শ্রমবাজারে প্রবেশ এবং নিয়মিতকরণের উদ্যোগ।
১১. বিপ্লবীদের সহায়তা:
জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের তালিকা, ভাতা ও সঞ্চয়পত্র প্রদান এবং চিকিৎসা সহায়তা।
১২. সামুদ্রিক ও অবকাঠামো উন্নয়ন:
বঙ্গোপসাগরকে অর্থনীতির সম্পদ ঘোষণা, বন্দর দক্ষতা বৃদ্ধি, উপকূলীয় উন্নয়ন জোরদার।

