সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

বাংলা ভাষাকে ‘বাংলাদেশি’ বলায় কলকাতা ফুটবল মাঠে প্রতিবাদের ঢেউ

ডেস্ক রিপোর্ট।।

ভারতের রাজধানী দিল্লি থেকে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি চিঠিতে বাংলা ভাষাকে ‘বাংলাদেশি ভাষা’ আখ্যায়িত করার ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গজুড়ে দেখা দিয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। এ বিতর্ক রাজনৈতিক অঙ্গন ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়েছে ক্রীড়াঙ্গনেও।

কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে আয়োজিত দুর্গাপুর কাপের একটি ম্যাচে ইস্টবেঙ্গল ফুটবল ক্লাবের সমর্থকেরা প্রতিবাদের ব্যতিক্রমী বার্তা দেন। ম্যাচ চলাকালে তাঁরা একটি বিশাল ব্যানার উন্মোচন করেন, যাতে লেখা ছিল—“ভারত স্বাধীন করতে সেদিন পরেছিলাম ফাঁসি / মায়ের ভাষা বলছি বলে আজকে বাংলাদেশি।”

এই প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বাংলাভাষীদের প্রতি ‘অসম্মানজনক’ মন্তব্যের বিরুদ্ধে এটি যেন প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে ওঠে। কলকাতাবাসীর মতে, ভাষা নিয়ে এমন বর্ণনা শুধু বিভ্রান্তিকর নয়, তা জাতীয় সংহতিকেও আঘাত করে।

উদ্ভব ঘটে দিল্লি পুলিশের একটি চিঠি ঘিরে, যেখানে অভিযোগ অনুযায়ী বাংলা ভাষাকে ‘বাংলাদেশি ভাষা’ বলা হয়েছে। চিঠিতে বাংলায় লেখা একটি নথির অনুবাদ চেয়ে ওই ভাষাকে এমনভাবে উল্লেখ করা হয়, যা অনেকের মতে ভারতীয় বাংলাভাষীদের প্রতি অবমাননার শামিল।

চিঠিটি সামনে আসার পরই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। এক্স প্ল্যাটফর্মে (সাবেক টুইটার) দেওয়া পোস্টে তিনি লেখেন, “বাংলা ভাষাকে ‘বাংলাদেশি’ বলা সংবিধানবিরোধী ও জাতির অসম্মান। এটি ভারতের কোটি বাংলাভাষী মানুষের অপমান।”

তবে দিল্লি পুলিশের পক্ষে ও বিজেপির কিছু নেতার দাবি, চিঠিতে কোনো ভাষাকে সরাসরি বাংলাদেশি বলা হয়নি। বরং নির্দিষ্ট কিছু উপভাষা, উচ্চারণভঙ্গি ও অভিব্যক্তি যা বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়—তা বোঝাতেই ওই শব্দচয়ন হয়েছে।

কলকাতার ফুটবল শুধু খেলার আবেগ নয়, প্রতিবাদের ভাষাও। এর আগেও ২০২০ সালে এনআরসি বিরোধী আন্দোলনের সময় ইস্টবেঙ্গল সমর্থকেরা মাঠে ‘রক্ত দিয়ে কেনা মাটি, কাগজ দিয়ে নয়’ বার্তা দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের সঙ্গে উদ্বাস্তু ইতিহাস জড়িত হওয়ায়, ভাষা ও জাতিগত পরিচয় নিয়ে তাদের সংবেদনশীলতা দীর্ঘদিনের।

এই প্রতিবাদ তাদের পূর্বপুরুষদের সেই যন্ত্রণার প্রতিধ্বনি—যাঁরা দেশভাগের পর শিকড় হারিয়ে নতুন জন্মভূমিতে মাথা গুঁজেছিলেন।

এই ইস্যুতে এখন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা দাবি করেছে। অন্যদিকে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বলছে, বিষয়টি অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ভাষা হলো পরিচয়ের অংশ। ভাষাকে রাজনৈতিক বর্ণনার ঘেরাটোপে ফেলে জনগণের আবেগে আঘাত দিলে প্রতিক্রিয়া আসবে—তা স্বাভাবিক।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন