দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনের জন্য একটি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত করার কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। শুক্রবার (৮ আগস্ট) মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা দীপংকর বর বলেন, “দ্বীপটির প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যকে সামনে রেখে এই মহাপরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। একইসঙ্গে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও স্থানীয়দের বিকল্প আয়ের সুযোগ তৈরিতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
সেন্ট মার্টিনে পর্যটন কার্যক্রমের প্রভাব নিয়ন্ত্রণ করে দ্বীপটির পরিবেশ পুনরুদ্ধারে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সারা দেশে পলিথিনের ব্যবহার বন্ধে কঠোর অভিযান চলছে। এ পর্যন্ত বহু পলিথিন উৎপাদনকারী কারখানা ও বিক্রয়কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, ঢাকার আশপাশে বায়ু দূষণ রোধে ৮৩০টি অবৈধ ইটভাটা ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং সাভার ও আশুলিয়াকে ‘দূষিত বায়ুমণ্ডল’ এলাকা ঘোষণার প্রক্রিয়া চলছে।
গত এক বছরে বেদখল হওয়া ৫ হাজার ৯৩ একর বনভূমি পুনরুদ্ধার করে সেখানে পুনঃবনায়ন করা হয়েছে। পূর্বাচলের ১৪৪ একর এলাকা বিশেষ জীববৈচিত্র্য এলাকা হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। কক্সবাজার ও সোনাদিয়ার বরাদ্দকৃত ১০ হাজার একর বনভূমিও পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।
-
ইউক্যালিপটাস ও আকাশমনি গাছ রোপণ নিষিদ্ধ
-
মধুপুর শালবন পুনরুদ্ধারে বিশেষ কর্মসূচি
-
চুনতি ও শেরপুরে হাতির চলাচলের পথ সংরক্ষণ
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে গঠন করা হয়েছে ১৫৯টি ‘এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম (ERT)’ এবং ৫ হাজারের বেশি প্রাণী উদ্ধার করা হয়েছে ২৯৩টি অভিযানে। বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় ময়ূর ফিরিয়ে আনতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ।
জাতীয় উদ্যান ও ইকোপার্কে প্লাস্টিক ব্যবহার ও পিকনিক নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শব্দ দূষণ প্রতিরোধে তরুণদের সম্পৃক্ত করে চলছে সচেতনতামূলক কার্যক্রম।
পলিথিনের বিকল্প হিসেবে পাটের ব্যাগ সাশ্রয়ী দামে সরবরাহে একটি নতুন প্রকল্পে যৌথভাবে কাজ করছে পরিবেশ ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের চলমান এসব উদ্যোগ বাংলাদেশের পরিবেশ সুরক্ষায় নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। একই সঙ্গে এগুলো জলবায়ু সহনশীল ও টেকসই উন্নয়ন অভিযাত্রায় বড় ভূমিকা রাখবে।

