মাত্র ৩৩ বছর বয়সে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পেলেন তরুণ শিক্ষাবিদ ড. মো. নাজমুল ইসলাম। মালদ্বীপে বাংলাদেশের নতুন হাই কমিশনার হিসেবে তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে সরকার, যা দেশের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, অন্যান্য সব ধরনের পেশাগত সম্পর্ক ছিন্ন করার শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী দুই বছরের জন্য এ নিয়োগ কার্যকর থাকবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ৩ আগস্টের অফিস আদেশে তাকে মালে-তে বাংলাদেশ হাই কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নোয়াখালীর সন্তান ড. নাজমুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০১৪ সালে স্নাতকোত্তর শেষে তুরস্ক সরকারের বৃত্তি নিয়ে আঙ্কারায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন।
পিএইচডি শেষে তিনি আঙ্কারা ইলদিরিম বেয়াজিট বিশ্ববিদ্যালয়ে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে নিয়োজিত হন এবং একইসঙ্গে তুরস্কের পার্লামেন্টের ফরেন রিলেশন্স অ্যান্ড প্রটোকল বিভাগে বিশেষ উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন—যা শত বছরের ইতিহাসে কোনো বিদেশির প্রথম নিয়োগ হিসেবে বিবেচিত।
এছাড়াও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের ফরেন সার্ভিস ইনস্টিটিউটে গেস্ট লেকচারার এবং জাতিসংঘ, ওআইসি, ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
তরুণ এই কূটনীতিকের নিয়োগকে দেশের পররাষ্ট্র নীতিতে এক নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। রোহিঙ্গা সংকটসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন সংখ্যালঘু ও মানবাধিকার ইস্যুতে তার একাডেমিক ও কূটনৈতিক ভূমিকা প্রশংসিত।

