বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

আর্মেনিয়া-আজারবাইজান শান্তি চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতা

ডেস্ক রিপোর্ট।।

দীর্ঘদিনের শত্রুতা ভুলে শান্তির পথে এক অভূতপূর্ব পদক্ষেপ নিল আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান। বিতর্কিত নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে কয়েক দশকের সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে দুই দেশ যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিতে ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউসে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।

চুক্তির ফলে দুটি প্রতিবেশী দেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন করে প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। উন্মুক্ত হবে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা বাণিজ্য ও পরিবহন রুট, যা শুধু দুই দেশের মধ্যেই নয় বরং গোটা ককেশাস অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান এবং আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ করমর্দনের মাধ্যমে শান্তির প্রতীক হিসেবে একে অপরকে স্বাগত জানান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই মুহূর্তকে “ঐতিহাসিক” উল্লেখ করে বলেন,
“আজ আমরা যুদ্ধ নয়, বন্ধুত্বের সূচনা করলাম। ৩৫ বছর ধরে যে বিভাজন ছিল, তা আজ একসঙ্গে বসে আলোচনার মাধ্যমে শেষ হলো।”

বিশ্লেষকদের মতে, এই শান্তিচুক্তি ককেশাস অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত প্রভাব বৃদ্ধির পাশাপাশি রাশিয়া এবং ইরানের ভূরাজনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে।

চুক্তির মূল ধারা অনুযায়ী:

  1. আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান সব ধরনের সামরিক উত্তেজনা ও আগ্রাসন বন্ধ করবে

  2. নাগোরনো-কারাবাখে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ মোতায়েন হবে

  3. দু’দেশ ভিসামুক্ত ভ্রমণ ও সরাসরি বাণিজ্য চালু করবে

  4. বন্দি ও আটক ব্যক্তিদের বিনিময় কার্যক্রম শুরু হবে

এই চুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে চলা এক রক্তক্ষয়ী অধ্যায়ের অবসান ঘটবে বলে আশা করছেন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।

নাগোরনো-কারাবাখ আজারবাইজানের ভূখণ্ড হলেও ১৯৯০-এর দশকের যুদ্ধের পর অঞ্চলটি আর্মেনিয়াপন্থি জাতিগত আর্মেনিয়ানদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। দুই দেশের মধ্যে ২০২০ সালে ফের বড় ধরনের যুদ্ধ হয়, যেখানে শত শত মানুষ প্রাণ হারান। সর্বশেষ এই চুক্তির মাধ্যমে দুই পক্ষই দায়িত্বশীলভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির দিকেই এগোলো।

এই শান্তিচুক্তিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার কূটনৈতিক নীতির সফল উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরছেন। এর আগে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে আব্রাহাম চুক্তির মতো আলোচিত চুক্তির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।

চুক্তি বাস্তবায়নে উভয় দেশের রাজনৈতিক সদিচ্ছা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পর্যবেক্ষণ ও সহায়তা অনিবার্য। যদিও এ মুহূর্তে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে অঞ্চলবাসী, তবে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি অর্জনে এটি মাত্র সূচনা বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন