সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে হত্যা করার আগে একটি হানিট্র্যাপ কৌশল ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে ফাঁদে ফেলা হয় বলে জানিয়েছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ। শনিবার দুপুরে এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন পুলিশ কমিশনার ড. নাজমুল করিম খান।
তিনি জানান, গোলাপী ওরফে পারুল আক্তার নামে এক নারীকে ব্যবহার করে এক ব্যক্তিকে ফাঁদে ফেলে সংঘর্ষে জড়ানো হয়, যা পরে সাংবাদিক তুহিনের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তদন্ত বলছে, এই পুরো ঘটনাটি ছিল একটি সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের সুপরিকল্পিত অপকর্ম, যেখানে ভিডিও ফুটেজ ধারণ করায় তুহিন হত্যার শিকার হন।
পুলিশ জানায়, বাদশা নামে এক ব্যক্তি একটি এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলে বেরিয়ে যাওয়ার সময় পারুল তাকে উত্ত্যক্ত করতে থাকে। এক পর্যায়ে বাদশা আত্মরক্ষায় তাকে আঘাত করলে, পারুলের সঙ্গে থাকা সন্ত্রাসীরা বাদশাকে কুপিয়ে আহত করে। এ সময় পুরো ঘটনার ভিডিও করছিলেন সাংবাদিক তুহিন। ভিডিও ফুটেজ ডিলিট না করায় তাকেই পরে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
ঘটনায় মোট ৮ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে, এর মধ্যে সাতজনকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানান পুলিশ কমিশনার। এদের মধ্যে কুখ্যাত সন্ত্রাসী ‘কেটু মিজান’ রয়েছে, যার বিরুদ্ধে ১৫টিরও বেশি মামলা রয়েছে বিভিন্ন থানায়। পলাতক আসামির গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ কমিশনার স্বীকার করেন, গাজীপুর মহানগরে জনবল স্বল্পতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশাল আয়তনের এই সিটিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি স্থানীয় বাসিন্দা ও গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতার আহ্বান জানান।
সাংবাদিক তুহিন হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই এ ঘটনাকে “প্রেসের ওপর আঘাত” হিসেবে দেখছেন। অনেকেই দাবি তুলেছেন—সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ আইন এবং নিরাপত্তা প্রটোকল প্রণয়ন জরুরি।

