বাংলাদেশে এখন সময় এসেছে বিভাজনের রাজনীতি পেছনে ফেলে জাতিকে ঐক্যের পথে এগিয়ে নেওয়ার — এমনই আহ্বান জানালেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, “স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও আমরা এখনো জাতিকে স্বাধীনতার পক্ষে-বিপক্ষে বলে ভাগ করি—এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। বরং জাতিকে একতাবদ্ধ করে একটি বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের সময় এসেছে।”
শনিবার (৯ আগস্ট) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ দাবি করেন, স্বাধীনতার পর এমন কাউকে দেখা যায়নি, যিনি প্রকাশ্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন,
“স্বাধীনতা বিরোধী বলে যাদের নিয়ে আমরা বিভাজন তৈরি করি, বাস্তবে তাদের মধ্যেও এমন মনোভাব প্রকাশ পায়নি। চিন্তায় ভিন্নতা থাকতেই পারে, কিন্তু দেশের স্বাধীনতাকে কেউ প্রত্যাখ্যান করেনি।”
বক্তব্যে তিনি বলেন,
“কোনো একক ভাষা, ধর্ম বা সংস্কৃতি নয়—সব ধর্ম, ভাষা ও জনগোষ্ঠীকে নিয়ে একটি জাতি গঠন সম্ভব। আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। সবাইকেই ‘সিটিজেন’ হিসেবে দেখতে হবে, যাতে একক পরিচয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি তৈরি হয়।”
তিনি আরও যোগ করেন,
“আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হওয়া উচিত—একটি মানবিক, সাম্যভিত্তিক, ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র ও সরকার ব্যবস্থা গঠন করা, যেখানে সকল নাগরিকের মর্যাদা নিশ্চিত হবে।”
মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে রাজনৈতিক বাণিজ্যের হাতিয়ার বানানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা। বলেন,
“মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে রাজনীতি হয়েছে, ব্যবসা হয়েছে, বিভক্তি তৈরি হয়েছে। এখন সেই জায়গা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।”
শেষে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন,
“আমরা চাই বাংলাদেশ একটি সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক, মানবিক মর্যাদার রাষ্ট্রে পরিণত হোক। আমাদের পরিচয় হোক—বাংলাদেশী নাগরিক। এটাই আমাদের ন্যাশনালিটির মূল ভিত্তি হওয়া উচিত।”

