চলতি বছরের হজ কার্যক্রম শেষে হাজিদের ৮ কোটি ২০ লাখ টাকা ফেরত দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দাবি, এটি হজ ব্যবস্থাপনায় সরকারের স্বচ্ছতা ও দক্ষতার এক অনন্য উদাহরণ।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন জানান, সৌদি আরবের নিয়ম-কানুন অনুসরণ করে সময়মতো হজ ফি পরিশোধ, কার্যকর ব্যয়-নিয়ন্ত্রণ ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের মাধ্যমে হজযাত্রীদের খরচ কমানো সম্ভব হয়েছে। ফলে অতিরিক্ত আদায়কৃত অর্থ ফেরত দিতে সক্ষম হয়েছে সরকার।
এ বছর হজযাত্রায় নতুন সংযোজন ছিল তিনটি সেবা:
-
‘লাব্বাইক’ অ্যাপ,
-
প্রি-পেইড হজ কার্ড,
-
ফোনে রোমিং সুবিধা।
সেবা বিস্তারের পাশাপাশি প্রশাসনিক খরচ কমিয়ে প্রথমবারের মতো সীমিত জনবল দিয়েই পরিচালনা করা হয় গোটা হজ মিশন।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের আরও উদ্যোগ:
-
২০২৪-২৫ অর্থবছরে হজ প্যাকেজ মূল্য গত বছরের চেয়ে ৭৩ হাজার টাকা কমানো হয়।
-
মসজিদ-মাদ্রাসা, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ প্রায় ৭ কোটি টাকার অনুদান বিতরণ করা হয়েছে।
-
১১ কোটি টাকার যাকাত বিতরণ ও ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য ২ কোটির বেশি অনুদান ও সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া হয়েছে।
-
১ কোটির বেশি শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ককে ধর্মীয় ও প্রাথমিক শিক্ষা দিচ্ছে সরকার পরিচালিত মসজিদভিত্তিক শিক্ষা প্রকল্প।
নেপালের লুম্বিনিতে বাংলাদেশ বৌদ্ধ মঠ কমপ্লেক্স নির্মাণের কাজ শুরু হচ্ছে, যার বাজেট ধরা হয়েছে ৬৮ কোটি টাকা।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা:
-
হজ অফিসকে অধিদপ্তর রূপে উন্নীত করার প্রক্রিয়া চলছে।
-
ওয়াক্ফ এস্টেট ব্যবস্থাপনায় অটোমেশন চালু করে অনলাইন সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
-
হাইকোর্টে ওয়াক্ফ মামলার জন্য ডেডিকেটেড বেঞ্চ চালু করা হয়েছে, যা দ্রুত বিচারপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করবে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এই ধারাবাহিক কর্মতৎপরতায় একনেক ও প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকেও এসেছে প্রশংসা।

