বাড়িতে ইন্টারনেট সংযোগ এখন যেন অপরিহার্য। স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, স্মার্ট টিভি—সবকিছুর মূল সংযোগস্থল হয়ে উঠেছে ওয়াই-ফাই রাউটার। অনেকেই রাউটার সারাদিনই চালু রাখেন, আবার কেউ কেউ রাতে ঘুমানোর আগে সেটি বন্ধ করেন বিদ্যুৎ বাঁচানোর উদ্দেশ্যে। কিন্তু আদৌ কী এতে কোনও বড় ধরনের সাশ্রয় হয়?
বিদ্যুৎ বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত একটি গৃহস্থালী ওয়াই-ফাই রাউটার মাসে গড়ে ৭ থেকে ১০ ওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। যদি রাউটারটি ২৪ ঘণ্টা চালু থাকে, তাহলে মাসে সেটি ৭২০ ঘণ্টা চালানো হয়।
বিদ্যুৎ খরচ হিসাব করে দেখা গেছে:
-
রাউটার বিদ্যুৎ ব্যবহার: ১০ ওয়াট × ৭২০ ঘণ্টা = ৭,২০০ ওয়াট/ঘণ্টা
-
কিলোওয়াট ঘণ্টায় রূপান্তর: ৭,২০০ ÷ ১,০০০ = ৭.২ ইউনিট বিদ্যুৎ
-
যদি প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম হয় ৭.৫০ টাকা, তাহলে মাসিক খরচ:
৭.২ × ৭.৫ = ৫৪ টাকা মাত্র
এখন যদি কেউ রাতে ১২ ঘণ্টা রাউটার বন্ধ রাখেন, তবে বিদ্যুৎ খরচ হবে অর্ধেক — অর্থাৎ প্রায় ২৭ টাকা। এতে মাসিকভাবে সাশ্রয় কম হলেও, বছরের শেষে হয়ত কিছুটা পার্থক্য চোখে পড়বে।
তবে ইলেকট্রনিক্স বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাউটার বারবার বন্ধ ও চালু করলে এর হার্ডওয়্যারের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। এতে ডিভাইসের আয়ুষ্কাল কমে যেতে পারে বা ধীরে ধীরে সিগন্যাল শক্তি দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, যদি রাউটার দিনের বেশিরভাগ সময় ব্যবহার না হয়, যেমন অফিস টাইমে বা গভীর রাতে, তখন বন্ধ রাখলে ভালো। তবে বারবার অন-অফ না করে নির্দিষ্ট সময়ভিত্তিক টাইমার বা স্মার্ট প্লাগ ব্যবহার করলে যান্ত্রিক ক্ষতির আশঙ্কা কমে যায়।
ওয়াই-ফাই রাউটার সারাদিন চালিয়ে রাখলেও বিদ্যুৎ বিলের ওপর প্রভাব খুব একটা পড়ে না। তবে পরিবেশ-সচেতনতা ও প্রযুক্তির আয়ু দীর্ঘায়িত করতে হলে নিয়মতান্ত্রিক ব্যবহার এবং স্মার্ট ব্যবস্থাপনা জরুরি।

