সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

সপ্তাহজুড়ে জ্বালানি তেলের দামে সবচেয়ে বড় পতন

ডেস্ক রিপোর্ট।।

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম শুক্রবার (৮ আগস্ট) দিন শেষে স্থিতিশীল থাকলেও, পুরো সপ্তাহজুড়ে দেখা গেছে উল্লেখযোগ্য পতন। জুনের পর এই সপ্তাহেই সবচেয়ে বড় দরপতনের রেকর্ড হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, শুল্কবিষয়ক উত্তেজনা, রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য চুক্তি এবং তেলের উৎপাদন বৃদ্ধির ঘোষণাই এই ধসের মূল কারণ।

বাজার পরিস্থিতি সংক্ষেপে:

  • ব্রেন্ট ক্রুড: শুক্রবার ১৬ সেন্ট বেড়ে ব্যারেলপ্রতি দাঁড়ায় ৬৬.৫৯ ডলার

  • ডব্লিউটিআই: অপরিবর্তিত থেকে ৬৩.৮৮ ডলারে স্থির

  • সপ্তাহজুড়ে পতন: ব্রেন্ট ৪.৪% এবং ডব্লিউটিআই ৫.১% কমেছে

শুক্রবার দিনভর বাজারে অস্থিরতা লক্ষ্য করা যায়, বিশেষ করে ব্লুমবার্গের একটি প্রতিবেদনের পর। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ইউক্রেন যুদ্ধ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে সম্ভাব্য একটি চুক্তি হতে পারে। এতে রাশিয়ার হাতে কিছু এলাকা থেকে দখল ছাড়ের শর্তে যুদ্ধ বন্ধের সমঝোতা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধের সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমাধান এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ইঙ্গিত রাশিয়ান তেলের সরবরাহ বাড়াতে পারে, যা বাজারে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছে। এর পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যে বাণিজ্যিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, ভারত যদি রাশিয়া থেকে তেল আমদানি অব্যাহত রাখে, তবে তাদের ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপ করা হবে। একই হুমকি দেওয়া হয়েছে চীনকেও। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র বৃহস্পতিবার একাধিক দেশের ওপর আমদানি শুল্ক বাড়িয়েছে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি চাহিদা নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

ওপেক প্লাস জোট রোববার জানিয়েছে, তারা সেপ্টেম্বর থেকে দৈনিক ৫ লাখ ৪৭ হাজার ব্যারেল অতিরিক্ত তেল উৎপাদন করবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে খনন রিগের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১১-এ, যা তেলের সরবরাহ আরও বাড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এফজিই নেক্সান্টইসিএর এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, উৎপাদন বাড়ানো ও ট্রাম্পের শুল্ক নীতির প্রভাব মিলে বাজারে আবারও নেতিবাচক সেন্টিমেন্ট ফিরে এসেছে।

ট্রাম্প তার অর্থনৈতিক উপদেষ্টা স্টিফেন মিরান-কে ফেডারেল রিজার্ভের শূন্য পদে মনোনীত করেছেন। মিরান সুদের হার কমানোর পক্ষপাতী বলে পরিচিত, যা তেলের চাহিদা বাড়াতে পারে। তবে বাজার এখনো এ বিষয়ে দ্বিধায় রয়েছে।

ডলারের মান শুক্রবার কিছুটা বেড়েছে, যদিও সপ্তাহজুড়ে ছিল নিম্নমুখী। সাধারণত ডলারের দাম বাড়লে তেল তুলনামূলক ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে বিদেশি ক্রেতাদের জন্য, ফলে চাহিদা কমে যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের কমোডিটি ফিউচারস ট্রেডিং কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ৫ আগস্ট শেষ হওয়া সপ্তাহে বিনিয়োগকারীরা তেলের ফিউচার ও অপশন মার্কেটে নেট লং পজিশন কমিয়েছে। অর্থাৎ, তারা ভবিষ্যতে দাম আরও কমতে পারে বলে আশঙ্কা করছে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন